শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

জানেন কি, কোন দেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা সবচেয়ে বেশি, পাহাড়ের উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারা হয় কোন দেশে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুদণ্ড! সভ্য দুনিয়ায় মৃত্যুদণ্ড থাকা উচিত কি না তা নিয়ে বিতর্কের কোনও শেষ নেই। বিশ্বের অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড একটা স্বাভাবিক ও নিয়মিত ঘটনা। আবার ভারতের মতো অনেক দেশে খাতায় কলমে মৃত্যুদণ্ডের নিয়ম থাকলেও দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা বিরল। তবে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করার পক্ষে সারা বিশ্ব জুড়েই জোরালো দাবি রয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠন চায় মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি তুলে দেওয়া হোক। তাদের বক্তব্য, যত গুরুতর অপরাধই হোক, একটা মানুষকে মারার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় কোনও বিচারব্যবস্থার। খুন, ধর্ষণ, মাদক পাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ মূলত এই সবের জন্যই কঠোর সাজা দেওয়া হয়।

অ্যামনেস্টির হিসেব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ও কার্যকর করা হয় চিনে। ২০১৭ সালে হাজারেরও বেশি মানুষকে মারা হয় মারণ ইঞ্জেকশন দিয়ে বা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে চোখ বেঁধে দাঁড় করিয়ে মারা হয়। চিন প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে না। তবে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যার নিরিখে জনসংখ্যার মতোই চিন সব দেশের চেয়ে এগিয়ে।

মৃত্যুর সাজা দেওয়ায় দ্বিতীয় স্থানে যে দেশ সেই ইরানে প্রকাশ্যে মানুষকে সাজা দেয়। ফাঁসি, পাথর ছুড়ে মারা, এমনকী সমকামী হওয়ার অপরাধে উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ইরানে। ভাবলেই কিন্তু বেশ গা শিউরে ওঠে!  পাথর ছুড়ে মারার মতো নৃশংস দণ্ড তো খুবই সাধারণ ঘটনা ইরানে। সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী মহিলা হলে তাঁকে গলা পর্যন্ত একটা গর্তে নামিয়ে দেওয়া হয়। পুরুষ অপরাধীকে কোমর সমান গর্তে নামিয়ে দেওয়া হয়। তার পর জনতা পাথর ছোড়ে। পুরো ব্যাপারটাই মধ্যযুগীয় ও নিষ্ঠুর এতে  সন্দেহ নেই। পাথর ছোড়া তো আছেই, ইসলামিক দেশগুলিতে মাথা কেটে, ফাঁসি দিয়ে, গুলি করে ও মারণ ইঞ্জেকশন দিয়েও সাজা দেওয়া হয় অপরাধীদের।

ইরানের পরেই আছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর ও সোমালিয়া।

দেখুন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশন্যাল-এর এই ভিডিও

তবে আর এক একনায়কতন্ত্রের দেশ উত্তর কোরিয়াও নেহাত পিছিয়ে নেই। তবে সে এক এমন দেশ যেখানে আসলে কী হয় আর কী হয় না, সেটা আসলে কেউই বলতে পারে না। শোনা যায় ফায়ারিং স্কোয়াড ধরনের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বুনো কুকুরের খাঁচায় ফেলে দিয়েও মারা হয় অপরাধীদের। আইন বলে কার্যত কিছু নেই,  উত্তর কোরিয়ায় অপরাধীর সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন খালি সে দেশের শাসক কিম জং উন।

কোন দেশে কত মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়, কতগুলি কার্যকর হয় ও কী কী উপায়ে মারা হয় সেই  সব ডেটা সংগ্রহ করা সহজ কাজ নয়। কারণ বেশির ভাগ দেশই এ নিয়ে সরকারি ভাবে মুখ কোলে না। আন্তর্জাতিক মহলে ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয়ে কিছুটা। অ্যামনেস্টিকে খুবই কষ্ট করে  নানা স্তর থেকে এই সব রিপোর্ট বার করতে হয়। যেমন, চিন। চিন এই সংক্রান্ত কোনও সরকারি ডেটা প্রকাশ করে না। ওটা তাদের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনের মধ্যে পড়ে। গত ২০১৭ সালে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও পাকিস্তান এই চার ইসলামিক দেশে বিশ্বের ৮৪% মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। সিঙ্গাপুরে ২০১৭ সালে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুরে মাদক আইন খুব কঠোর। মাদক পাচারের কারণে সেখানে মৃত্যুদণ্ডও হয়।

গত বছর রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুটেরেজ় জানিয়েছিলেন, বিশ্বের ১৭০টি দেশ মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করেছে বা দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্তত ১০ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যদিও এই সংখ্যাটি আসলে ১৪২ বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশন্যাল। সংখ্যাটি যাই হোক, এই প্রয়াসের প্রশংসা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।  তার অর্থ রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাকি ২৩টি দেশ গত ১০ বছরে একটি না একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। কিন্তু অ্যামনেস্টির হিসেবে, গত ১০ বছরে অন্তত ৩৩টি দেশে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়েছে ১০৬টি দেশে মৃত্যুদণ্ড অবৈধ। সাতটি দেশে বিরলতম অপরাধ, যেমন যুদ্ধের সময় করা কোনও অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ২৯টি দেশে মৃত্যুদণ্ড বৈধ হলেও সেসব দেশে গত ১০ বছরে একটি সাজাও কার্যকর হয়নি।

 

Comments are closed.