রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

মৃত তিমির পেটে ১০০ কেজি আবর্জনা! প্লাস্টিকের পরিমাণ দেখে আঁতকে উঠলেন পরিবেশবিদরা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কটল্যান্ডের সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০ টনের একটি তিমির দেহ। আর তার পেট থেকে পাওয়া গিয়েছে ১০০ কেজি আবর্জনা। প্যাঁচানো দড়ির বান্ডিল, প্লাস্টিকের কাপ, প্লাস্টিক ব্যাগ, গ্লাভস এমনকি মাছ ধরার জালও রয়েছে এই আবর্জনার তালিকায়।

বিবিসি-র রিপোর্ট অনুসারে গত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের হ্যারিস দ্বীপের সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হয় এই তিমিটির দেহ। স্থানীয়রা জানিয়েছে, অতিরিক্ত দূষণের কারণেই মৃত তিমির পেট থেকে বেরিয়েছে এইসব আবর্জনা। ড্যান অএরি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “মাছের পেট থেকেই যদি মাছ ধরার জাল উদ্ধার হয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখের আর কিছুই নেই।”

আরও পড়ুন- একরত্তি মৃত কচ্ছপের পেটে ১০৪ টুকরো প্লাস্টিক! অশনিসংকেত দেখছেন পরিবেশবিদেরা

দ্য স্কটিশ মেরিন অ্যানিমাল স্ট্রান্ডিং স্কিম (এসএমএএসএস)-এর তরফে ফেসবুকে ওই মৃত তিমির ছবি শেয়ার করা হয়েছে। এই সংস্থা তিমি এবনফ ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে তিমি মাছটির পেট কেটে পাকস্থলী থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১০০ কেজি সামুদ্রিক বর্জ্য পদার্থ। ওই সংস্থার আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন তিমি মাছটির পাকস্থলীতে একটি বলের মধ্যে জড়ো হয়েছিল সব আবর্জনা। আর কয়েকটা পদার্থ দেখে অনুমান করা হচ্ছে যে দীর্ঘদিন ধরেই তিমির পেটে রয়েছে ওইসব বর্জ্য পদার্থ।

তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হল প্লাস্টিকের পরিমাণ। ওই সংস্থার দাবি, যে পরিমাণ প্লাস্টিক তিমিটির পেটে ছিল তা সত্যিই উদ্বেগজনক। এ জন্য তিমিটির হজম ক্ষমতায় নিঃসন্দেহে সমস্যাও হয়েছিল। এসএমএএসএস সংগঠনের কর্তাদের কথায় গোটা ঘটনায় সামুদ্রিক দূষণের ফলাফল। আর এই সামুদ্রিক দূষণের সবটাই যে মানুষের তৈরি করা সেকথাও জানিয়েছেন দ্য স্কটিশ মেরিন অ্যানিমাল স্ট্রান্ডিং স্কিম সংগঠনের সদস্যরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিমি মাছটির এমন করুণ দশা দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা। ইতিমধ্যেই ১২ হাজার শেয়ার হয়েছে ওই পোস্ট। এসেছে শতাধিক কমেন্ট। আগামী দিনে পরিস্থিতি যে আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন নেটিজেনদের অনেকেই। জানা গিয়েছে, ওই সমুদ্র সৈকতেই কবর দেওয়া হয়েছে তিমিটিকে। কিন্তু কীভাবে এতদিন এত আবর্জনা পেটে নিয়ে তিমিটি বেঁচে ছিল, কীভাবেই বা তিমির পেটে এত বর্জ্য পদার্থ এল এইসব জানতে তদন্ত শুরু করেছে ওই সংস্থা।

Share.

Comments are closed.