গলায় হাঁটুর চাপে মৃত্যু কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিকের, খুনের অভিযোগ দায়ের পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে  

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তাঁর গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখেছিলেন এক পুলিশকর্মী। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিট থাকেন ওই পুলিশকর্মী। গলায় হাঁটুর চাপে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই প্রতিবাদ শুরু হয় ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। অবশেষে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার মিনেসোটার মিনেপলিসে। জর্জ ফ্লয়েড নামের এক আফ্রিকান-আমেরিকানকে আটক করার সময় এভাবে তাঁর গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেন ডেরেক চাউভিন নামের এক পুলিশকর্মী। সোমবার ঘটে এই ঘটনা। জর্জের মৃত্যুর পর চাউভিন ছাড়া আরও তিন পুলিশকর্মীকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।

৪৬ বছর বয়সী জর্জের মৃত্যুর পর প্রতিবাদ শুরু হয় মিনেপলিস জুড়ে। সেখানে বসবাসকারী কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশ বরাবর হিংস্রতা দেখায়, এই অভিযোগ তুলে কয়েকশ দোকান ভাঙচুর করা হয়। একটি পুলিশ স্টেশনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

হেনেপিন কাউন্টির প্রসিকিউটর মাইক ফ্রিম্যান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মিনেপলিস পুলিশের প্রাক্তন কর্মী ডেরেক চাউভিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।” চাউভিনের গ্রেফতারির পর অবশ্য বিক্ষোভ থেমেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রথম পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।

সোমবার যে ভিডিও সামনে আসে, তাতে দেখা যায় জর্জ বারেবারে কাকুতি মিনতি করছেন, যে তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। তাতেও চাউভিনের কোনও হেলদোল দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পরে অচেতন হয়ে পড়েন জর্জ। তারপরেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পরে অভিযোগ দায়ের হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তখনই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ থামাতে প্রায় ৫০০ সেনা নামানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে বলেন, “যারা ভাঙচুর করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে তারা ঠগ। তারা জর্জের আত্মাকে অসম্মান করছে। এটা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।”

বিক্ষোভের পরেই অবশ্য চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড ও ডেরেক চাউভিনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জর্জের মৃত্যুর পরে আমেরিকার প্রাক্তন ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টুইট করে বলেন, “এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। যদি আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এমন একটা দেশে বেড়ে উঠুক যেখানে সবাইকে সম্মান করা হবে, তাহলে আমাদের এখনও অনেক কিছু করার রয়েছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More