শনিবার, মে ২৫

ইথিওপিয়ার ভেঙে পড়া বিমানে ছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের ভারতীয় উপদেষ্টাও, জানালেন সুষমা স্বরাজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪৯ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু মেম্বার সমেত মোট ১৫৭ জনকে নিয়ে ইথিওপিয়া থেকে কেনিয়ার উদ্দেশে উড়েছিল ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইটি-৩০২। উড়ানের ৬ মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বিমান। সূত্রের খবর, বিমানে সওয়ার সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।

এ দিনের বিমানে যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন চার ভারতীয়ও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ের উপদেষ্টা শিখা গর্গ। পরিবেশ মন্ত্রকের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শিখা। ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, রবিবারের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এই শিখা গর্গের। এ ছাড়াও এ দিনের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরও তিন ভারতীয়ের। তাঁরা হলেন, বিদ্যা পান্নাগেশ ভাস্কর, বিদ্যা হানসিন আন্নাগেশ এবং নুকাভারাপু মনীষা। পরিবেশমন্ত্রী ড. হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, ইউনাইটেড নেশনস্ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের উপদেষ্টা শিখা গর্গ রবিবার সন্ধ্যায় নাইরোবিতে আয়োজিত রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামে (ইউএনইপি) যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

ইথিওপিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় চার ভারতীয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, ইথিওপিয়ার ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে তাঁর ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে। মৃত ভারতীয় যাত্রীদের পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। শিখা গর্গের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুষমা। টুইটে তিনি লিখেছেন, শিখার স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার অনেক বার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি।  মৃতের পরিবারের কোনও সদস্যের খোঁজ থাকলে বা তাঁর স্বামীর কোনও খবর পেলে, দ্রুত জানানোর জন্য টুইটারাইটদের অনুরোধ করেছেন তিনি।

টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনও। জানা গিয়েছে, রবিবারের এই উড়ানে ৩০টিরও বেশি দেশের যাত্রী সওয়ার হয়েছিলেন। এ দিন সন্ধ্যায় নাইরোবিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানের বার্ষিক সম্মেলন ছিল। সেখানেই যোগ দিতে এই প্লেনে চড়েছিলেন বহু যাত্রী। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন শিখা গর্গ।

রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা শহর থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইটি-৩০২। কিন্তু উড়ানের কিছুক্ষণ পরেই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওই বিমানটির। তারপরে ৬ মিনিটের মাথায় সকাল ৮টা ৪৪মিনিট নাগাদ খবর আসে ভেঙে পড়েছে ওই বিমান। সূত্রের খবর, আদ্দিস আবাবা শহরের ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বিশোফটু গ্রামের কাছে বিমানটি ভেঙে পড়েছে।

কী কারণে বিমানটি ভেঙে পড়েছে তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ইথিওপিয়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি অন্য কোনও কারণে ভেঙে পড়েছে এই বিমান তা এখনও জানা যায়নি। রবিবার দুর্ঘটনার পরেই ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে টুইট করে শোকপ্রকাশ করা হয়। সোমবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইথিওপিয়া সরকার।

Shares

Comments are closed.