বুধবার, মার্চ ২০

মানুষ বন্ধুই পছন্দ ছোট্ট ‘ফ্যালেস্তাইন’-এর, বাচ্চাদের সঙ্গেই খেলতে চাইছে সে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাত পায়ের নখ কাটার পর্ব শেষ। এ বার চিড়িয়াখানায় গেলেই খেলার সুযোগ মিলবে ছোট্ট সিংহীর সঙ্গে।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত প্যালেস্তাইনের গাজার এক চিড়িয়াখানায় পাওয়া যাচ্ছে এমনই সুবর্ণ সুযোগ। ১৪ মাসের এক সিংহীর সঙ্গে খেলতে দেওয়া হবে পর্যটকদের।

গাজার দক্ষিণ প্রান্তের রাফা এলাকার এই চিড়িয়াখানার সদস্য ওই ছোট্ট সিংহীর নাম ফ্যালেস্তাইন। চিড়িয়াখানায় আসা দর্শকরা যাতে ফ্যালেস্তাইনের সঙ্গে জমিয়ে আনন্দে মাততে পারেন সে জন্য ছোট্ট সিংহীর মেকওভারও হয়েছে। পরিষ্কার করে কেটে দেওয়া হয়েছে সিংহীর নখ। ওই চিড়িয়াখানার মালিক মহম্মদ জুম্মা জানিয়েছেন, “আমি ওর হিংস্রতা কমানোর চেষ্টা করছি। যাতে ও পর্যটকদের সঙ্গে খুব সহজেই মেলামেশা করতে পারে।”

২০০৪ সালে ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল রাফার এই চিড়িয়াখানা। ২০১৭ সালে মহম্মদ জুম্মা ফের তৈরি করেন এই চিড়িয়াখানা থুড়ি সাফারি পার্ক। মূলত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই মহম্মদের উদ্দেশ্য। আর সেই জন্যেই তিনি এই সিংহীকে পোষ মানাতে চান। আর চান বাচ্চারা যাতে নির্ভয়ে ফ্যালেস্তাইনের সঙ্গে খেলা করতে পারে। পায় অনাবিল আনন্দ।

প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ভেটেরিনারি চিকিৎসক ফয়জ-আল-হাদাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে ফ্যালেস্তাইন। ক’দিন আগে খাঁচা থেকে বের করে চিড়িয়াখানার কাছেই জনবহুল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই সিংহীকে। তার আগেই কেটে দেওয়া হয়েছিল হাত-পায়ের নখ। ফয়জ জানিয়েছেন, গাজাতে পশুদের চিকিৎসার জন্য কোনও হাসপাতাল নেই। আর সেই জন্যেই চিড়িয়াখানার ভিতরেই অপারেশন করে বাদ দেওয়া হয়েছে সিংহীর হাত ও পায়ের থাবার নখ। আর এই অপারেশনের পরেই প্রথমবার খাঁচা থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে এসেছিল ফ্যালেস্তাইন।

মহম্মদ জুম্মা জানিয়েছেন, ছোট্ট সিংহীকে দেখে আশেপাশের এলাকা থেকে এসে ভিড় জমিয়েছিল বাচ্চারা। হাসিমুখে দিব্যি দেখছিল ফ্যালেস্তাইনের কীর্তিকলাপ। এমনকী বারো বছরের রহিম নামের এক কিশোর তো রীতিমতো খেলাও জুড়ে দিয়েছিল ফ্যালেস্তাইনের সঙ্গে। অবশ্য সেখানে হাজির ছিলেন সিংহীর ট্রেনাররাও। প্রথমে একটু ভয় পেলেও সিংহীর আচরণ দেখে আস্তে আস্তে ভয় কেটে যায় রহিমের। জমিয়ে মজা করে সে। বন্ধুদের দেখাবে বলে ফ্যালেস্তাইনের সঙ্গে ছবি তুলে শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। সংবাদমাধ্যমকে তেমনটাই জানিয়েছিল ওই কিশোর।

তবে খানিক খেলাধুলোর পরেই বেজায় ক্লান্ত হয়ে যায় ফ্যালেস্তাইন। অল্প বয়সে বেশি ধকল কী আর সয়। তাই গাছের গায়ে থাবা আঁচড়ে সাফ জানিয়ে দেয় বাচ্চাদের আর মনোরঞ্জন করতে পারবে না। ভাবখানা এমন যে অনেক হয়েছে। এ বার বাপু আমি নিজের বাড়ি ফিরবো। থাবায় নখ না থাকায় আঁচড়টাও ঠিকভাবে কাটা হয়নি। তাই যেন মেজাজটাও খানিক খিঁচড়ে যায় ওই খুদে সিংহীর। তবে বয়সে ১৪ মাসের হলেও আয়তনে কিন্তু মোটেও ছোট্ট নয় ফ্যালেস্তাইন। তাই সিংহীর মুড বিগড়াতে দেখে আর রিস্ক নেননি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় খাঁচায়।

আপাতত ট্রেনিং চলছে সিংহীর। আর পার্কের মালিক মহম্মদের আশা আর কয়েকদিনের মধ্যেই মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য একদম তৈরি হয়ে যাবে ফ্যালেস্তাইন।

Shares

Comments are closed.