শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

কার সঙ্গে শেয়ার করবেন মনের কথা? জেনে নিন ‘ডিম’-এর কাছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবার ব্যাপারে ভোজনরসিক জনতার কাছে ডিমের একটা আলাদা আবেগ রয়েছে। পোচ হোক বা ওমলেট, সেদ্ধ হোক বা ঝোল, কষা কিংবা রসা, ‘ডিম’ শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটাই দৃশ্য। ধবধবে সাদা আর লালচে হলুদের কম্বিনেশনে তৈরি এক পরম উপাদেয় খাবার। লুকস থেকে টেস্ট—-সবেতেই এ যেন ১০০ তে ১০০। এমনকী রূপচর্চাতেও ব্যবহার করা যায় ডিমকে।

তবে এই সবকিছুর বাইরেও যে মানুষের আরও একটা মহান কাজে ডিম লাগতে পারে তা বোধহয় আগে জানা ছিল না। তবে এ বার জানবেন। সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম।

একুশ শতকের ব্যস্ত জীবনে আমাদের অন্যতম পছন্দের সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া। সুখ হোক বা দুঃখ, সব মুহূর্তই নিমেষে শেয়ার হয়ে যায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। সেখানে রয়েছে আপনার অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব। যাঁরা সুখে-দুখে প্রকৃত বন্ধুর মতো পাশে থাকার দাবিও করে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায় এই সবই আসলে মেকি। কিন্তু এই বিশ্বে এত সমস্যা। আর তাতে জড়িয়ে পড়লে, বেরনোর পথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কেই খুঁজতে থাকি আমরা। এমনকী নিজেদের মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতেও একজন রক্ত-মাংসের মানুষের পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নেন অনেকে।

কিন্তু লন্ডনের বাসিন্দা ২৯ বছরের ক্রিস গডফ্রে কিন্তু ভাবেন একটু আলাদা পথে। কিন্তু নিজের ভাবনা তো আর পাঁচজনকে জানাতে হবে। তবে উপায়? এ ক্ষেত্রে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়াকেই ভরসা করেছেন ক্রিস। আর নিজের ভাবনা নিয়ে রাতারাতি ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্টও খুলে ফেলেছেন তিনি। সেখানেই আপলোড করেছেন একটি ভিডিও।

এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে একটি ডিমকে যার নাম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এগ’। আজকাল নাকি ভীষণ চাপে রয়েছে সে। আর সেই চাপের মূলে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। মাঝে মাঝেই মানসিক ভাবে ভেঙেও পড়ছে সে। তবে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এগ’ নাকি এমন একজনকে পেয়েছে যার সঙ্গে কথা বলে হাল্কা হওয়া যায়। এমনকী অনেক সমস্যার সমাধানও হয়। কেটে যায় মানসিক অবসাদও। তাই এই ডিমের পরামর্শ, সমস্যায় পড়লে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার না করে বরং কোনও মানুষের সঙ্গে কথা বলে সেটার সমাধান করা উচিত।

ইনস্টাগ্রামে এখন ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে এই ডিমের ভিডিও। ইতিমধ্যেই পেয়েছে ৫২ মিলিয়ন লাইক। কিন্তু আসলে সমাজে কী বার্তা দিতে চাইছে এই ডিম। আর হঠাৎ ডিমই বা কেন?

ক্রিসের সাফ জবাব ডিমের কোন লিঙ্গ, জাতি, ধর্ম নেই। তাই সরল সাদামাঠা ডিমকেই তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের বার্তা দেওয়ার জন্য। মূলত এটা একটা বিজ্ঞাপন। যার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে মানসিক সমস্যা হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় উপায় না খুঁজে একজন প্রকৃত বন্ধুর হাত ধরে উচিত। তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলে সমস্যা শেয়ার করা দরকার। কারণ একমাত্র একজন বন্ধুই পারে আর এক বন্ধুর মানসিক সমস্যা দূর করতে। অন্তত ক্রিস তেমনটাই মনে করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি নেটিজেনদের প্রশংসাও পেয়েছে এই ভিডিও। অনেকেই বলেছেন, ‘দ্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এগ’-এর মতো তাঁদের জীবনেও একজন প্রকৃত বন্ধুর প্রয়োজন। কারণ তাঁদের বিশ্বাস এই বন্ধুর হাত ধরেই সব সমস্যা অনায়াসেই সমাধান করা সম্ভব হবে।

Shares

Comments are closed.