মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

কাশ্মীর নিয়ে এত হম্বিতম্বি, অথচ নিজের দেশেই কাঠগড়ায়, জোড়া অস্বস্তি পাকিস্তানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেনেভাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সুর চড়িয়েই যাচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি তারা দাবি করেছে, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়েছে ৬০টি দেশ। অবশ্য, কোনও দেশের নাম বলেনি তারা। এর মধ্যে নিজেদের দেশেই জোড়া অস্বস্তিতে পড়ল ইমরান খান সরকার। গিলগিট-বালটিস্তান ও বালুচিস্তানের দুই অ্যাক্টিভিস্ট এই দুই অঞ্চলে পাক সরকার ও সেনার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান যে ভারতের উপর এত আক্রমণ শাণাচ্ছে, এই দুই এলাকায় তারা নিজেরা কী করছে?

গিলগিট বালটিস্তান

অ্যাক্টিভিস্ট সেঙ্গে এইচ সেরিং বুধবার দাবি করেছেন, গিলগিট বালটিস্তান এলাকা আসলে ভারতের। কিন্তু গত ৭০ বছর ধরে এই এলাকার উপর অধিকার কায়েম করে আছে পাকিস্তান। ফলে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে বলেই দাবি করেছেন তিনি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত গিলগিট বালটিস্তানের পশ্চিমে খাইবার-পাখতুনখোয়া অঞ্চল ও দক্ষিণে জম্মু-কাশ্মীর রয়েছে।

সেরিং আরও অভিযোগ করেছেন, ১৯৮৪ সাল থেকে এই এলাকার ডেমোগ্রাফিতে অনেক বদল এনেছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, “একদিকে কাশ্মীরের জনগণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলছে পাকিস্তান। অন্যদিকে তারা গিলগিট-বালটিস্তানের ডেমোগ্রাফিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে এই এলাকা না রাজ্য, না প্রদেশ। এর কোনও স্বাধীনতা নেই।”
এমনকী ভারতের লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়ার প্রশংসা করে সেরিং বলেছেন, আমরা চাই, এই গিলগিট বালটিস্তান এলাকাকেও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হোক। তাহলে এই এলাকার উন্নয়ন হবে। এই দাবি নিয়েই রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আবেদন করতে চান তিনি। তাঁর আবেদনের ব্যাপারে ভারতেরও সাহায্য চেয়েছেন সেরিং।

বালুচিস্তান

বালুচিস্তান-সিন্ধ এলাকাতেও পাক সেনাবাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সেখানকার এক অ্যাক্টিভিস্ট। বালুচ হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অ্যান্ড পুশ্তুনস-এর তরফে জেনেভাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের দফতরের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে সেখানে পোস্টার লাগিয়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন রজ্জাক বালোচ।

সেইসব ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘বালুচিস্তানের উপর পাকিস্তানের জুলুম বন্ধ করো’, কিংবা ‘বালুচিস্তান স্বাধীন ছিল, আছে ও থাকবে।’ পাক সেনার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়েছে এই সব ব্যানারে। রজ্জাক বালোচ জানিয়েছেন, “পাকিস্তান সভ্য দেশ নয়। কাশ্মীরিদের অধিকার নিয়ে বলার কোনও যোগ্যতা তাদের নেই। তারা বালুচিস্তানের মানুষদের উপর কী ধরণের অত্যাচার করেছে, সেটা কি তারা ভুলে গেছে? বালুচিস্তান ও সিন্ধ অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা চায়।”

আমেরিকায় বালুচিস্তান আন্দোলনের মুখ নবি বক্স বালোচ বলেছেন, “যতদিন আমাদের জমিতে পাকিস্তানের অধিকার থাকবে, ততদিন আমরা শান্তি পাবো না। পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি কখনওই স্বীকার করবেন না, বালুচিস্তান সিন্ধ এলাকার মানুষদের বিরুদ্ধে কীভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। তাই আমরা দেশ ছেড়ে এতদূরে। আমাদের কথা কারা শুনবে? তাই আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

রজ্জাক বালোচও লাদাখ এলাকা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, চিনের প্রাধান্য খর্ব করতেই লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে বালুচিস্তান-সিন্ধ এলাকা থেকে বছরের পর বছর ধরে সোনা খনন করে নিয়ে গিয়েছে চিন। তারা ধনী হয়েছে। পাক সেনাপ্রধান ও রাজনৈতিক নেতারা ধনী হয়েছেন। অথচ বালুচিস্তানের মানুষের অবস্থা একই রয়েছে। আর তাই জেনেভাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি আমরা।

Comments are closed.