মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

মাঝ আকাশে প্লেন, পাইলটের ভুলে গরম কফি ছিটকে পড়ল ককপিটের কন্ট্রোল প্যানেলে! তারপর…

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ককপিটে বসে আয়েস করে কফি খাচ্ছিলেন পাইলট। তারপর খানিক বেখেয়ালেই কফির কাপ হোল্ডারের বদলে রেখে দিয়েছিলেন পাশেই একটি ট্রে-তে। ঢাকাও দেননি কফির কাপ। তাতেই ঘটল বিপত্তি।

অসাবধানতায় কাপ থেকে ছিটকে গরম কফি সটান পড়ে যায় ককপিটের কন্ট্রোল প্যানেল। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। পোড়া গন্ধে ভরে যায় পাইলটের কেবিন। বাধ্য হয়েই ৩২৬ জন যাত্রী সমেত জরুরি অবতরণ করেন পাইলট। এ যাত্রায় কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইলেকট্রিক শক লেগে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারত পাইলটের। এই ঘটনার সময় প্লেনটিও ছিল অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের উপরে। পাইলটের কিছু হলে কিংবা নিমেষের কোনও ভুলে যাত্রী বোঝাই প্লেন সটান পড়ে যেত সুবিশাল মহাসাগরে। হয়তো সলিল সমাধি হতো ৩২৬ জনেরই। তবে বরাত জোরে এ যাত্রায় সকলেই অক্ষত রয়েছেন।

জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্ট থেকে মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এয়ারবাস A330-243। যাত্রী এবং ক্রু মেম্বার ও পাইলট, সব মিলিয়ে প্লেনে ছিলেন ৩২৬ জন। কিন্তু মাঝ আকাশে আচমকাই ঘটে বিপত্তি। পাইলটের সামান্য ভুলে গরম কফি গিয়ে পড়ে ককপিটের কন্ট্রোল প্যানেলে। বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলছেন অনেক বড় বিপদ হয়তো হতে পারত। তবে এ ক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি। বরং বুদ্ধি করে আয়ারল্যান্ডের শ্যানন-এ প্লেনের ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করান পাইলট। যাত্রীদের সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

Air Accidents Investigation Branch (AAIB)-এর তরফে জানানো হয়েছে এই ঘটনা ঘটেছে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে। তবে কোন এয়ারলাইন্সের বিমানে এই ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিজেদের নিয়মে কড়াকড়ি করেছে প্রায় সব বিমান সংস্থাই। পাইলটদের দেওয়া কফির কাপে যাতে অবশ্যই ঢাকনা থাকে এবং পাইলটের কেবিনে কফির কাপ রাখার হোল্ডার থাকে, সে ব্যাপারে বিশেষ নিজর দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতেই এত নিয়মকানুন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

Comments are closed.