জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি ইমরান সরকার, কালো তালিকায় ফেলা হতে পারে পাকিস্তানকে, দাবি এফএটিএফ-এর রিপোর্টে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর রিপোর্টে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। জঙ্গি নেতা ও জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাক সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি, সে কথাই লেখা রয়েছে ওই রিপোর্টে। এর ফলে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হতে পারে পাকিস্তানকে।

শনিবার এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ২২৮ পাতার এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গ্লোবাল টেররিস্ট তকমা পাওয়া মাসুদ আজহার, হাফিজ সঈদ, দাউদ ইব্রাহিম- সহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধেও।

এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এফএটিএফ-এর যে ৪০টি প্যারামিটার রয়েছে তার চারটি পূর্ণ করতে পারেনি পাকিস্তান। সেগুলি হল আর্থিক কারচুপিকে চিহ্নিত করা, কী ধরনের আর্থিক কারচুপি হচ্ছে তার পরিমাণ করা, সেই আর্থিক কারচুপির ব্যাপারে জনসাধারণকে জানানো এবং জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দেশের ভিতর ও বাইরে থেকে অর্থ সরবরাহের বিষয়।

পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রিপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অগস্ট মাসে এফএটিএফ যে রিপোর্ট প্রকাশিত করেছিল তাতে ৪০টি প্যারামিটারের মধ্যে ৩২টিই পূর্ণ করতে পারেনি পাকিস্তান। এ বার বাকি থাকল চারটি। তবে এই চারটি প্যারামিটারই খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এক সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, পাকিস্তানকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে কিনা।

জুন মাসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, অক্টোবরের মধ্যেই জঙ্গিদের অর্থ সরবরাহর বিষয়ে পদক্ষেপ করতে। না হলে সমস্যায় পড়তে হবে। বলা হয়েছিল, এরপর পাকিস্তানকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে এবং ততদিন পর্যন্ত তাদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ রাখা হবে, যতদিন না তারা নিজেদের দেশের মাটিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে।

পাকিস্তানকে এরই মধ্যে ‘ধূসর তালিকা’য় রাখা হয়েছে। ভারতসহ এফএটিএফ-এর অন্য সদস্য দেশগুলি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, হাফিজ সঈদ, মাসুদ আজহার ও অন্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য। চিন অবশ্য পাকিস্তানের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। যদিও তারা এই হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বলেনি।

পাকিস্তান অবশ্য দাবি করেছে তারা বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ৭০০ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। কিন্তু এফএটিএফ-এর সদস্যরা সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার পাকিস্তানের তরফে এই ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More