আরও বিপাকে ইমরান, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানকে কালো তালিকায় ফেলল এফএটিএফ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় আরও বিপাকে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিশ্বব্যাপী আর্থিক নজরদারি চালানো সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগ সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কালো তালিকাভুক্ত করেছে পাকিস্তানকে। ২৭ দফা কর্ম পরিকল্পনার বিষয়ে এফএটিএফ-এর দেওয়া এই ১৫ মাসের সময়সীমা শেষ হবে অক্টোবর মাসে। এই সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদকে ফের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য সবরকম চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তা পাকিস্তানের কাছে কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগ অর্থ-তছরুপ ও সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে তহবিল গঠনের বিষয়ের ৪০ টি কমপ্লায়েন্স প্যারামিটারের ৩২ টিতে পাকিস্তানকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছে।

চলতি বছর জুন মাসে এই ওয়াচডগ সংস্থা পাকিস্তানকে অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ তহবিল সংগ্রহ বন্ধ করার ব্যাপারে কড়া সতর্কতা জারি করেছিল। বলা হয়েছিল, এই তহবিল সংগ্রহ বন্ধ না হলে কঠিন পরিস্থির সামনে পড়তে হতে পারে ইমরান খান সরকারকে। কিন্তু এই সংক্রান্ত ১১টি প্যারামিটারের মধ্যে ১০টিতে খুব খারাপ হাল পাকিস্তানের। এফএটিএফ-এর তরফে জানানো হয়, অক্টোবর মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকাভুক্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে পাকিস্তানকে। যদি ইমরান খান সরকার এই নির্দেশিকা না মানে, তাহলে ফের তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে বলেই খবর।

২০১৮ সালের জুন মাসের আগে ‘ধূসর তালিকাভুক্ত’ ছিল পাকিস্তান। কিন্তু আর্থিক তছরুপ ও সন্ত্রাসবাদ তহবিল গঠন বন্ধ করার মতো বিষয়ে অনেক দুর্বল বলেই বিবেচিত হয় পাকিস্তান। আর তার ফলে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকেই কালো তালিকাভুক্ত করা হয় পাকিস্তানকে। তারপরেই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে গ্লোবাল টেররিস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এফএটিএফ-এ ভারত ও অন্যান্য সদস্য দেশ বারবার অভিযোগ করে, পাকিস্তান হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহার-এর মতো একাধিক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকী এই সব জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে কোনও মামলাও করতে পারেনি পাক সরকার। পাকিস্তানের মাটিতে বসে নির্দ্বিধায় সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থসংগ্রহ ও সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার কাজ করেছে এই সব জঙ্গি নেতা। ওই দেশগুলো একথাও উল্লেখ করেছে যে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইন এখনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করে যে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াৎ ফাউন্ডেশন এবং জইশ-ই-মহম্মদ সহ  ৭০০টিরও বেশি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সম্পত্তি দখলের মাধ্যমে তারা যথেষ্ট কাজ করেছে। তবে পাকিস্তানের এই বক্তব্যে যে খুব একটা কাজ হয়নি তা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর বক্তব্যেই প্রকট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More