বৃহস্পতিবার, মে ২৩

ফের বেঁফাস পাক সাংবাদিক, মাসুদ আজহারের সঙ্গে তুলনা টানলেন দলাই লামার!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিতকরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিন। এই নিয়ে চতুর্থ বার।  চিনের এ হেন সিদ্ধান্তের পর থেকেই সরগরম বিশ্ব রাজনীতি। নয়াদিল্লিও জানিয়েছে চিনের এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় তারা। এর মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, “চিন কেন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে সেটা স্পষ্ট। কারণ চিনের শত্রু দলাই লামাকে দশকের পর দশ ধরে আশ্রয় দিয়েছে ভারত।”

বেঁফাস মন্তব্য করতে পাক সাংবাদিকরা যে বেশ পটু তার প্রমাণ এর আগেও পাওয়া গিয়েছে। পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হানার পর ভারতের কৃষকরা জানিয়েছিলেন পাকিস্তানে তারা উদ্বৃত্ত ফসল আর পাঠাবেন না। এমনকী রফতানি করবেন না টোম্যাটো-ও। এর পরেই এক পাক সাংবাদিক বলেন ভারত টোম্যাটো না পাঠালে তার বদলে গ্রেনেড ছুড়বে পাকিস্তান। এ বার সটান মাসুদ আজহারের সঙ্গে দলাই লামার তুলনা টানলেন আর এক পাক সাংবাদিক হামিদ মীর।

হামিদের টুইটের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় টুইটারে। অনেকেই বলছেন, মাসুদ আজহার একজন সন্ত্রাসবাদী। আর দলাই লামা নোবেলজয়ী ব্যাক্তিত্ব। কী ভাবে এমন দু’জন মানুষের তুলনা টানলেন হামিদ? কেউ বা সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, “ওদের থেকে এমনটাই আশা করা যায়। ও দেশের মানুষদের বিচার-বিবেচনা-বুদ্ধি যে এমন হবে এটাই স্বাভাবিক।” অনেকে আবার হামিদের পেশাদারিত্বের উপরেও প্রশ্ন তুলেছেন। একজন সাংবাদিক হয়ে হামিদ মীর কীভাবে এ হেন মন্তব্য করলেন সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হানার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। তারপর থেকেই জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা। পরে জার্মানিও সেই প্রস্তাবে সমর্থন করে। কিন্তু প্রথম থেকেই বেঁকে বসেছিল চিন।

নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কোনও প্রস্তাব পেশের পরে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও দেশ আপত্তি তুলতে পারে। মাসুদের বিরুদ্ধে প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা পেরনোর কয়েক ঘণ্টা আগেই আপত্তি তুলেছে চিন। প্রসঙ্গত, মাসুদ আজহার আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত হলে, তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতো। বিধিনিষেধ আরোপ করা হত মাসুদের চলাফেরার উপর। কেউ যাতে তাকে অস্ত্র বিক্রি করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখা হতো।

Shares

Comments are closed.