বুধবার, মার্চ ২০

সিওল শান্তি পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিওল শান্তি পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে গিয়ে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। শান্তি পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়েও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মোদী।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের নিরিখে এই পুরস্কার দেওয়া হলো মোদীকে। এ দিনের পুরস্কার মঞ্চে অবশ্য ইংরাজিতেই কথা বলতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীকে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদী বলেন, “সিওল শান্তি পুরস্কার পেয়ে আমি সম্মানিত। এই পুরস্কার আমার একার নয়, সব ভারতবাসীর পুরস্কার এটা। বিজেপি সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যেই ভারতের যে উন্নতি হয়েছে, তার জন্যই এই পুরস্কার।” মোদী আরও জানান, মহাত্মা গান্ধীর দেড়শো তম জন্মবার্ষীকিতে এই পুরস্কার পেয়ে তিনি আরও সম্মানিত বোধ করছেন।

২০১৫ সালের সফরের পর দ্বিতীয়বার দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের বক্তৃতায় মোদী বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে বদল এসেছে। তাদের মধ্যে একটি হলো দারিদ্র্য। বিশ্বজুড়ে গরিব মানুষের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু এখনকার দিনে সমস্যাগুলো আলাদা। বিশ্বজুড়ে প্রধান যে দুটো সমস্যা এখন উঠে আসছে, তা হলো গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও সন্ত্রাসবাদ।”

সিওলের মঞ্চ থেকেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এখন সময় সব ইতিবাচক চিন্তার দেশগুলির হাতে হাত মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার। এটা করলে তবেই আমরা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের জাল কাটতে পারবো। শুধুমাত্র এভাবেই আমরা ঘৃণার জায়গায় বন্ধুত্ব, ধ্বংসের জায়গায় সৃষ্টি এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি ছড়াতে পারবো।”

এরপরেই ভারতের সীমান্ত সমস্যার প্রসঙ্গে তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী। এই সমস্যাকে দক্ষিণ কোরিয়ার সমস্যার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ দেশের মতো আমরাও ৪০ বছর ধরে সীমান্ত সমস্যায় ভুগছি। সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপের ফলে আমাদের দেশের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে।” নাম না করেও পাকিস্তানের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মোদী। তিনি বলেন, যারা এই সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে, তারা ভুলে যাচ্ছে দেশের মানুষ রেগে রয়েছে। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় শহিদ ৪০ জওয়ানের বদলা চাইছেন তাঁরা।

মোদীর আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের সেক্রেটারি কোফি আন্নান, জার্মান চ্যান্সেলার আঞ্জেলা মার্কেলের মতো ব্যক্তিত্বরা এই সিওল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। এই সভায় মোদীর উপর বানানো একটি শর্ট ফিল্মও দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কার দেওয়ার আগে উদ্যোক্তারা নরেন্দ্র মোদীর নোটবন্দির প্রশংসা করে বলেন, এর ফলে ভারতের অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আরও অনেক প্রকল্পের প্রশংসা করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন বিশ্বকাপে পাক ম্যাচ বয়কট, নাকি পাকিস্তানকেই নির্বাসনের দাবি? বৈঠক শুরু বোর্ডের

Shares

Comments are closed.