সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

মেগাকোয়েক? ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ঘিরে আলোড়ন ভূতত্ত্ব-মহলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম তাঁর ফ্র্যাঙ্ক হুগারবিটস। ভূতত্ত্ববিদরা তাঁকে নিজেদের গোত্রে না ফেললেও তিনি নিজেকে তাই মনে করেন। বছরের পর বছর ধরে ভূমিকম্প নিয়ে গবেষনা করে চলেছেন এই ফ্র্যাঙ্ক। ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের পদ্ধতিও বের করেছেন। আর এই যন্ত্রেই নাকি ধরা পড়েছে শুক্রবার হতে চলেছে এক বড়সড় ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা হতে পারে ৭.৫ থেকে ৮ পর্যন্ত। যদিও বিশেষজ্ঞরা তাঁর এই পূর্বাভাসকে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অতীতে তিনবার ফ্র্যাঙ্কের দেওয়া ভূমিকম্পের পূর্বাভাস মিলে গিয়েছে।

হুগারবিটসের মতে, চাঁদের জ্যামিতিক অবস্থান ও অন্যান্য গ্রহাণুপুঞ্জের আপেক্ষিক অবস্থানের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতি তাঁর আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন, কবে ভূমিকম্প হবে। এই পরীক্ষা করেই তিনি জানিয়েছেন, “১৬ এপ্রিল চাঁদের জ্যামিতিক অবস্থান ও দুটি গ্রহাণুপুঞ্জের আপেক্ষিক অবস্থান এমনভাবে থাকবে, যার ফলে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে আলোড়ন উঠবে। এর ফলে ১৯ এপ্রিল অর্থাৎ শুক্রবার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে।” ফ্র্যাঙ্ক আরও জানিয়েছেন, “রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৫ থেকে ৮ মাত্রার মধ্যে হবে। ২০১৮ সালের ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারিও একই ধরণের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।” নিজের ওয়েবসাইট ডিট্রিয়ানাম-এ এই পূর্বাভাসের কথা লিখেছেন তিনি।

যদিও ভূমিকম্পের দিন ও মাত্রার কথা বললেও কোথায় এই ভূমিকম্প হতে পারে, সে ব্যাপারে অবশ্য খোলসা করে কিছু জানাননি হুগারবিটস। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি বলেছেন, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস অনুমান করার জন্য তিনি একটি অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, যার নাম সোলার সিস্টেম জিওমেট্রি ইন্ডেক্স ( এসএসজিআই )। ফ্র্যাঙ্ক জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি বুঝতে পেরেছেন, চাঁদ ও গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থানের সঙ্গে ভূ-অভ্যন্তরের আলোড়ন সরাসরি যুক্ত। আর তাই এই অবস্থানের উপর নির্ভর করেই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পকে কিন্তু বেশ বড় মাত্রার ভূমিকম্প বলেই ধরা হয়ে থাকে। এই মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেকটা বেশি হয়।

কয়েক সপ্তাহ আগে হুগারবিটস পূর্বাভাস দিয়েছিলেন মার্চের শেষদিকে একটি মাঝারি মানের ভূমিকম্প হতে চলেছে। সত্যিই ৩০ মার্চ গ্রীসে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এই ঘটনার পর থেকে অনেকেই দাবি করেছেন, নিজের পদ্ধতির মাধ্যমে সত্যিই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস অনুমান করতে পারেন তিনি। তাঁর পূর্বাভাসকে বিশ্বাস করা যায়। শুধু সে বারই নয়, তার আগে আরও দু’বার পূর্বাভাস মিলে গিয়েছিল এই স্বঘোষিত ভূতত্ত্ববিদের।

তিনবার পূর্বাভাস মিলে গেলেও ফ্র্যাঙ্কের দাবি মানতে নারাজ ভূতত্ত্ববিদরা। তাঁদের বক্তব্য, ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হলো পাতের সঞ্চালন। এই সঞ্চালনের ফলে পাতে পাতে যে ঘর্ষণ হয়, তার থেকে যে শক্তি নির্গত হয়, তাই ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। এছাড়া অবশ্য অগ্ন্যুৎপাতের ফলেও ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কখনওই চাঁদ বা গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প হতে পারে না। কারণ এটা পুরোপুরি ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরের ব্যাপার। ভূমিতে আলোড়ন হলে তবেই ভূমিকম্প হবে। অন্য কোনও কারণে ভূমিকম্প হয় না।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, কখনওই আগে থেকে বোঝা যায় না কবে ভূমিকম্প হবে। হয়তো ভূমিকম্প হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তা বোঝা যেতে পারে, কিন্তু এত আগে থেকে তা কখনওই সম্ভব নয়। এক-দু’বার পূর্বাভাস মিলে যেতে পারে, কিন্তু সেটা কাকতালীয়। তাই ফ্র্যাঙ্ক হুগারবিটসের এই দাবি সম্পূর্ণ ধারণার উপর নির্ভর করে নেওয়া, এমনটাই বক্তব্য ভূতত্ত্ববিদদের।

আরও পড়ুন

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট শিশু, ওজন নাকি একটা আপেলের সমান!

Comments are closed.