রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই থেকে আচমকাই সরে দাঁড়ালেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর কমলা হ্যারিস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত যে জামাইকান তরুণী প্রচারের শুরুতেই আন্দোলিত করে দিয়েছিলেন মার্কিন রাজনীতির পরিসর, যাঁকে ‘মহিলা বারাক ওবামা’ বলে পর্যন্ত আখ্যা দিতে শুরু করেছিলেন অনেকে, তাঁর এই সহসা ঘোষণায় বুধবার সকালে বিস্মিতই হয়ে যায় গোটা বিশ্ব।

টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করে হ্যারিস জানিয়েছেন, প্রচারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের অভাবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি কোটিপতি নই। ভোটের প্রচারে প্রচুর অর্থ খরচের সামর্থ্যও আমার নেই। সে কারণেই প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে দেব না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমার লড়াই চলবে।

তাঁর এই টুইটের পর টুইট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা তোমার অভাব বোধ করব”। ওমনি পাল্টা টুইট করে কমলা লেখেন, “আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না প্রেসিডেন্ট। আপনার বিচারে আমি থাকব!”

ক্যালিফোর্নিয়ার সেনেটর কমলার এভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে সন্দেহ নেই। কমলাই ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াইয়ে নামা প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা। আর নির্বাচিত হলে তিনিই হতে পারতেন বারাক ওবামার পর এই পদে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান, আর একই সঙ্গে প্রথম এশীয় ও আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা।

জামাইকা ও ভারতীয় অভিবাসী দম্পতির মেয়ে, আমেরিকার নাগরিক কমলা হ্যারিস, ২০১৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ছিলেন ওই রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল।

৫৪ বছরের কমলা হ্যারিস বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কড়া সমালোচক। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড়ে মনোনয়নের লড়াইয়ে যোগ দেওয়া পঞ্চম ডেমোক্র্যাট তিনি। তাঁর আগে প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে নামার কথা ঘোষণা করেছিলেন আর এক ভারতীয়-বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট তুলসি গব্বার্ড। এলিজাবেথ ওয়ারেন, ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ড এবং জন ডিলানি নামের আরও তিন জনের নাম ছিল তালিকায়।

তাঁর সমর্থকদের কাছে ‘মহিলা বারাক ওবামা’ বলে পরিচিত হ্যারিস ছোটবেলায় যেমন হিন্দুদের মন্দিরে যেতেন, তেমনি আবার কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপটিস্ট চার্চেও যেতেন। তাঁর নাম ‘কমলা’ এসেছে পদ্মফুলের সংস্কৃত শব্দ কমল থেকে। হ্যারিসের মা ভারতীয়। তরুণী বয়সে আমেরিকায় এসেছিলেন তিনি। হ্যারিসের বাবা আফ্রিকার জামাইকার বাসিন্দা ছিলেন। হ্যারিসের সাত বছর বয়সে তাঁর বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে মায়ের কাছেই বড় হন হ্যারিস ও তাঁর বোন।

Share.

Comments are closed.