রবিবার, জুলাই ২১

এ কোন মাছ! দাম ‘মাত্র’ ২১ কোটি টাকা!

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাছের অকশন চলছে। হঠাৎ করেই একটি টুনা মাছের জন্য এক ব্যক্তি দর হাঁকালেন ২১ কোটি টাকা। উপস্থিত সবার চোখ কপালে উঠেছে। সবার মনে প্রশ্ন, কী এমন মাছ, যার জন্য এত টাকা খরচ করা যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে জাপানের সুকিজিতে। দুনিয়ার সবথেকে বড় মাছের বাজার হলো এই সুকিজি। ১৯৩৫ সাল থেকে প্রতি বছর নববর্ষের দিন সেখানে হয় অকশন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মাছেদের নিলাম হয়। এই বছর নিলামে এমনই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ‘টুনা কিং’ কিওশি কিমুরা।

আরও পড়ুন ‘কোথাও পাছায়, কোথাও কোমরে বাড়ি পড়বে, এ ভাবেই মিলেমিশে চলবে,’ ভোটের আগে বিরোধীদের হুঁশিয়ারি অনুব্রতর

জাপানের বিখ্যাত রেস্তোরাঁ চেইনের মালিক এই কিওশি। প্রায় প্রতি বছরই এই অকশনে সবথেকে বেশি দামের মাছটি তিনিই কেনেন। আর এখানে তো টুনা মাছের ব্যাপার। মাছটিও অবশ্য সেরকমই। ২৭৮ কিলোগ্রাম ওজনের দৈত্যাকার নীল পাখনাওয়ালা টুনা খুব একটা দেখা যায় না। বিরল প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত এই মাছ। আর তাই এমন একটি মাছ পেয়ে কিওশি তা হাতছাড়া করবেন, তা হয়। তার জন্য যদি পকেট বেশ খানিকটা খালি হয়ে যায়, কুছ পরোয়া নেই।

কিওশি জানিয়েছেন, গতবার এই ধরণেরই একটি টুনা তিনি ১৫৫০ লাখ ইয়েন বা প্রায় ১০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। এ বার দামটা দ্বিগুন পড়ে গেল। তাতে কী? কিওশির কথায়, এ বছর এমনিতেই টুনা মাছের দাম বেশি। তাই বেশি দাম দিয়ে কিনলেও তিনি বিশ্বের সেরা মাছটাই কিনেছেন, এই বিশ্বাস কিওশির। 

 

এমনিতেই জাপানে মাছ চাষ অন্যতম জীবিকা। প্রতি বছর সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হয় মাছ। আর এই অতিরিক্ত মাছ চাষের ফলেই জাপান উপকূলে এখন অনেক মাছের প্রজাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে ব্লু-ফিন টুনা অন্যতম। নীল রঙের পাখনাওয়ালা এই টুনার সংখ্যা এমনিতেই কম। আর তাই কিওশির এই কাণ্ডের বিরোধিতাও করা হয়েছে পরিবেশ প্রেমীদের থেকে।

বিশ্বজুড়ে টুনা সংরক্ষণের প্রচার করে বেড়ানো জেমি গিবন যেমন জানিয়েছেন, “আদতে উৎসবের নামে এই মাছ ধরার ফলে ধীরে ধীরে টুনা মাছ পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।” জাপান সরকারও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

তাতে অবশ্য থোড়াই কেয়ার কিওশি কিমুরার। ২১ কোটি টাকা দিয়ে টুনা কিনে মহানন্দে তাঁর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এই রেস্তোরাঁ মালিক।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

 

Comments are closed.