কলম্বো বিস্ফোরণ: ‘সবটাই যেন সিনেমা’, বললেন অল্পের জন্য বেঁচে ফেরা দম্পতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক মুহূর্তের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন এক ভারতীয় দম্পতি। চোখের পলকেই এদিক-ওদিক হয়ে যেতে পারত সবটাই। কিন্তু ভাগ্যের জোরে এ যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা। আর তারপর থেকেই বলছেন, ‘পুরোটাই ছিল সিনেমার মতো।‘

সিনেমাই বটে। ভরপুর অ্যাকশন ফিল্ম। যার পরিণতি ভয়াবহ। শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সময় ব্যবসায়িক কাজে কলম্বো গিয়েছিলেন দুবাই নিবাসী ওই ভারতীয় দম্পতি। ২১ এপ্রিলের রক্তাক্ত ইস্টার সানডে’র দিন অভিনব চারি এবং তাঁর স্ত্রী নবরূপ ছিলেন হোটেল ‘সিনামন গ্র্যন্ড’-এ। গালফ নিউজকে অভিনব এবং নবরূপ দু’জনেই জানিয়েছেন, ইস্টার সানডে’র ব্রেকফাস্ট টেবিলে সার্ভ করার ঠিক আগের মুহূর্তেই বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা। বুঝতে পারেন সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটেছে। নিমেষেই জানতে পারেন বিস্ফোরণ হয়েছে তাঁদের হোটেলে।

নবরূপের মতো অভিনবও দুবাইতেই বড় হয়েছেন। তিনি  জানিয়েছেন, “দু’বার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বাইরে পা রেখেছি। আর দু’বারই সন্ত্রাসের নিকৃষ্টতম রূপের সাক্ষী হয়েছি।“ প্রথমবার যখন ২০০৮ সালে মুম্বই এসেছিলেন অভিনব। সেই সময়ই পাক মদপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা মুম্বইয়ের আলিশান তাজ প্যালেসে আক্রমণ করে। অভিনবের কথায়, “পাঁচ-ছ’দিন যে কী ভাবে কেটেছিল তা আমিই জানি।“ সন্ত্রাসের স্মৃতি একটু একটু করে ফিকে হতে শুরু করেছিল। কিন্তু তার আগেই ফের শ্রীলঙ্কায় আইসিস-এর নাশকতার সাক্ষী হলেন অভিনব চারি।

অভিনব এবং নবরূপা জানিয়েছেন, ইস্টার সানডে থাকায় সকাল সকাল গির্জায় গিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, “প্রার্থনার মাঝেই সকলকে গির্জা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তখনও কিছুই বুঝতে পারিনি। এরপর আমরা একটা ট্যাক্সি নিয়ে ব্রেকফাস্ট খেতে যাচ্ছিলাম। সেই সময়েই রাস্তাঘাট দেখে আমাদের সন্দেহ। হয়।“ এরপরেই হোটেলে ফিরে আসেন চারি দম্পতি। তারপরেই বুঝতে পারেন কয়েক মুহূর্তে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে গোটা কলম্বো শহর। নবরূপা বলেছেন, “টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া দেখেই বুঝতে পারছিলাম ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী হয়েছে, কতটা বড় মাপের ক্ষয়ক্ষতি সেসব আন্দাজ করার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। চোখের সামনে একটা সিনেমা চলছিল যেন। নিমেষে সব কিছু বদলে যাচ্ছিল।“

কলম্বোবাসী জানিয়েছেন, গত দশ বছরে এমন ভয়াবহ জঙ্গি হামলা দেখেনি শ্রীলঙ্কা। পরপর ৮টি বিস্ফোরণ হয়েছিল সে দিন। তিনটি গির্জা এবং তিনটি পাঁচতারা হোটেল এক লহমায় শ্মশান হয়ে গিয়েছিল। নিহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষ। আহত পাঁচশো-রও বেশি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More