সোমবার, অক্টোবর ১৪

ফোনে অশ্লীল প্রস্তাব বসের, রেকর্ডিং ছড়িয়ে পড়ায় মহিলাকেই জেলের সাজা, রেহাই অভিযুক্তকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরে ফোনে অশ্লীল কথাবার্তা ও প্রস্তাব দেওয়া হতো ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা নুরিল মাকনুনকে। প্রস্তাব দিতেন তাঁরই তৎকালীন বস মুসলিম। তিতিবিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সেই কথা রেকর্ড করে রাখেন মাকনুন। কোনওভাবে সেই রেকর্ডিং ছড়িয়ে পড়ে। আর তারপর অশ্লীল কথাবার্তা ছড়ানোর দায়ে নুরিলকেই ছ’মাসের জেলের সাজা শুনিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে মুসলিমকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। এমনকী কর্মক্ষেত্রে উন্নতিও হয়েছে তাঁর। আর এই ঘটনার পরেই উত্তাল ইন্দোনেশিয়া। দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন মহিলাপন্থী বেশ কিছু সংগঠন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০১৫ সালে। সেই সময় ইন্দোনেশিয়ার মাতারামের সিনিয়র হাই স্কুল সেভেন-এ বুককিপারের কাজ করতেন নুরিল। ওই স্কুলেই প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন মুসলিম। নুরিল অভিযোগ করেন, ২০১২ সাল থেকে এ ভাবে ফোনে তাঁকে অশ্লীল প্রস্তাব দিতেন মুসলিম। বাধ্য হয়েই সেইসব কথাবার্তা রেকর্ড করেন তিনি। স্কুলে দু’জনকে নিয়ে গুজব ছড়ানো শুরু হলে নিজের স্বামী ও কলিগদের সামনে সেই রেকর্ডিং শোনান তিনি। তারপরেই কোনওভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পরেই মুসলিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুরিল। কিন্তু কোর্ট জানিয়ে দেয়, অশ্লীল কথাবার্তা ছড়িয়ে আইনের চোখে দোষী নুরিল, মুসলিম নন। এই বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এক মাস জেলেও কাটাতে হয় নুরিলকে। কিন্তু তারপরেও কোর্টের সিদ্ধান্ত তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়ায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলা শুনতে অস্বীকার করে। জানিয়ে দেওয়া হয়, ছ’মাসের জেল ছাড়াও ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে নুরিলকে। জরিমানা ঠিক সময়ে না দেওয়া হলে সাজার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানায় আদালত। অন্যদিকে রেহাই দেওয়া হয়েছে মুসলিমকে। কর্মক্ষেত্রে তাঁর পদোন্নতি হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

আর এই ঘটনা সামনে আসার পর ইন্দোনেশিয়ায় মহিলাদের অবস্থা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বেশ কিছু সংগঠন। নুরিল জানিয়েছেন, “আমাদের রক্ষা করা প্রশাসনের কর্তব্য। অথচ সেই প্রশাসনই আমাদের বিরুদ্ধে অবিচার করছে। সবার মনে রাখা উচিত, এ দেশে মেয়েদের বিরুদ্ধে কোনও অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার কোথাও পাওয়া যাবে না।” তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, “এই ঘটনার পর তার প্রভাব নিয়ে আমাদের চিন্তা হচ্ছে। এ বার তো পুরুষদের মধ্যে এই ধরণের কাজের জন্য আরও বেশি করে সাহস আসবে। ফলে মহিলাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।”

গত বছর অবশ্য এই বিষয়ে নুরিলকে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর তিনি জানিয়েছেন, “এই ব্যাপারে এখনও আমার কাছে কোনও আবেদন করা হয়নি। আবেদন করলে নিশ্চয় এই বিষয় নিয়ে আমি পদক্ষেপ নেব।”

Comments are closed.