বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

মাইনাস ৯০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল দেহের তাপমাত্রা, তারপরেও বেঁচে গেল ‘ফ্লাফি’!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণত একটা বিড়ালের দেহের তাপমাত্রা থাকে ১০১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কিন্তু ফ্লাফির শরীরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ছিল মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তারপরেই বেঁচে গিয়েছে ওই বিড়ালটি।

হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় নাজেহাল অবস্থা মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব আমেরিকার। যে দিকে চোখ যায় নজরে আসে শুধুই বরফ। সেই সঙ্গে চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমেছিল জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ। আবহাওয়াবিদদের অনুমান ছিল, তাপমাত্রা পৌঁছতে পারে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সুমেরুর বরফশীতল ঠান্ডা হাওয়া দক্ষিণমুখী হওয়ার ফলেই এই বিপজ্জনক পোলার ভর্টেক্সের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আবহবিদরা। পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্যেই শৈত্যপ্রবাহের কারণে আমেরিকায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২১ জনের। তুষারক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে।

আর এই সাংঘাতিক ঠান্ডার হাত থেকে রেহাই পায়নি উত্তর-পশ্চিম মন্টানার বাসিন্দা মার্জার প্রজাতির সদস্য ফ্লাফি। বাইরে ঠান্ডা ঠিক কতটা সেটা বোধহয় আন্দাজ করতে পারেনি এই ছোট্ট বিড়ালটি। বেড়িয়ে পড়েছিল বরফে মধ্যেই। বরফে জমে যাওয়া অবস্থায় নিজের পোষ্যকে উদ্ধার করেন ফ্লাফির মালিক। তিনি জানিয়েছেন, চাপ চাপ বরফ জমাট বেঁধে আটকে গিয়েছিল তাঁর সাধের পোষ্যর লোমের উপর। তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্টানার একটি ভেটেরেনারি হাসপাতালে।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক অ্যান্দ্রিয়া জানিয়েছেন, যখন ফ্লাফিকে নিয়ে আসা হয়েছিল পুরোই জমে গিয়েছিল বিড়ালটি।দ্রুত ফ্লাফির শরীর গরম করার চেষ্টা শুরু করেন চিকিৎসকরা। গরম জলে ভেজানো টাওয়েল দিয়ে মুছিয়ে দেওয়া হয় বিড়ালটির গা। সেঁক দেওয়া হয় হট প্যাড জাতীয় জিনিস দিয়েও। প্রায় এক ঘণ্টা পরে জ্ঞান ফেরে ফ্লাফির। তার গায়ে জমাট বাঁধা বরফও গলতে শুরু করে। আর সেই সময়েই চিকিৎসকরা দেখতে পান যে সামান্য চোটও রয়েছে ফ্লাফির শরীরে।

তবে এখন সুস্থই রয়েছে মন্টানার এই বিড়াল। দিব্য খেলেও বেড়াচ্ছে বাড়ি জুড়ে। তবে ভুলেও নাকি বাইরে বেরনোর চেষ্টাও করছে না ফ্লাফি। তেমনটাই জানিয়েছেন, ফ্লাফির মালিক।

Shares

Comments are closed.