মঙ্গলবার, মে ২১

বাজেয়াপ্ত করা হবে মাসুদের সব সম্পত্তি, জানিয়ে দিল ফ্রান্স

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকারের পর থেকেই জইশ প্রধান মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে উদ্যত হয়েছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে মাসুদকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিতকরণের প্রস্তাবও এনেছিল ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স এবং জার্মানি। কিন্তু বাদ সেধেছিল চিন।

তবে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে নড়তে নারাজ ফ্রান্স। তাই এ বার মাসুদ আজহারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ অর্থ ও বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে তারা সবসময়েই ভারতের পাশে রয়েছে। মাসুদ আজহারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ফ্রান্স আরও জানিয়েছে, ইউরোপের অন্যান্য দেশের কাছেও এই প্রস্তাব রাখবে প্যারিস।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার সিআরপিএফ-এর কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই ফিদায়েঁ জঙ্গি হানায় শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। আহত হন আরও অনেকে। এরপরেই জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা। পরে জার্মানিও সেই প্রস্তাবে সমর্থন করে। কিন্তু প্রথম থেকেই বেঁকে বসেছিল চিন।

এই নিয়ে চতুর্থবারের জন্য মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিতকরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিন।নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কোনও প্রস্তাব পেশের পরে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও দেশ আপত্তি তুলতে পারে। মাসুদের বিরুদ্ধে প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা পেরনোর কয়েক ঘণ্টা আগেই আপত্তি তোলে চিন। প্রসঙ্গত, মাসুদ আজহার আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত হলে, তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতো। বিধিনিষেধ আরোপ করা হত মাসুদের চলাফেরার উপর। কেউ যাতে তাকে অস্ত্র বিক্রি করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখা হতো।

কিন্তু চিনের ভেটোয় আপাতত মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। নয়াদিল্লিও যে চিনের এ হেন আচরণে সন্তুষ্ট নয় তা আগেই জানিয়েছিল। এ বার ময়দানে নামলো ফ্রান্সও। বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল মাসুদ আজহারের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

Shares

Comments are closed.