বিরল ব্যাপার: জায়ান্ট পান্ডার যমজ সন্তান, একটি ছেলে একটি মেয়ে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পান্ডার কথা মনে পড়লে অজান্তেই মুখে ফোটে হাসি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা নাদুসনুদুস চেহারা। সাদা-কালো ছোপওয়ালা গোলগাল চেহারার শান্ত-নিরীহ এক প্রাণী। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিয়োগুলোতে দেখা যায় সারাদিন আলসেমি করে গড়াগড়ি খাচ্ছে এই পান্ডারা। কখনও বা ঘাস-পাতা চিবোচ্ছে ধীর লয়ে।

    তবে এই পান্ডাদের মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ প্রজাতির ‘বেবি জায়ান্ট পান্ডা’। গবেষকরা বলছেন এই জাতের পান্ডা ‘এক্সট্রিমলি রেয়ার স্পিসিস’। আর বেলজিয়ামের একটি চিড়িয়াখানায় জন্ম নিয়েছে এই ‘বেবি জায়ান্ট পান্ডা’। তাও আবার জোড়ায়। একটি মেয়ে ও একটি ছেলে। চিড়িয়াখানার তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় তিন বছর পর এই প্রজাতির পুরুষ পান্ডার জন্ম হয়েছে। বেলজিয়ামের Pairi Daiza জু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুস্থই রয়েছে এই দুই বেবি জায়ান্ট পান্ডা।

    ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে এই বিরল প্রজাতির পান্ডার সংখ্যা এখন দু’হাজারেরও কম। গত বুধবার সন্ধ্যায় ওই চিড়িয়াখানার পান্ডা হাও হাও-এর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। তবে অন্তঃসত্ত্বা পান্ডা যে এমন বিরল প্রজাতির যমজ পান্ডার জন্ম দেবে তা আন্দাজ করেননি কেউই। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে যমজ ‘বেবি জায়ান্ট পান্ডা’-র জন্ম দেয় হাও হাও। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছেলে পান্ডাটির ওজন ১৬০ গ্রাম। আর মেয়েটির ওজন ১৫০ গ্রাম। পুরোপুরি বড় হলে ওদের ওজন হবে ১০০ কেজির এদিক-ওদিক। ২০১৪ সালে চিন থেকে বেলজিয়ামে আনা হয়েছিল হাও হাও এবং তার সঙ্গী জিং হুই-কে। ২০১৬ সালে নিজেদের প্রথম সন্তানের জন্ম দেয় এই পান্ডা। বাচ্চাটির নাম রাখা হয়েছিল তিয়াও বাও। যার অর্থ ‘ট্রেজার অফ হেভেন’।

    অনেকদিন পর এমন বিরল প্রজাতির পান্ডা জন্ম নেওয়ায় দারুণ খুশি বেলজিয়ামের ওই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, সংখ্যায় ওরা দিনদিন কমে আসছে। তাই এমন প্রজাতির পান্ডার নতুন করে জন্ম তো ভীষণ ভালো খবর। যমজ পান্ডা জন্ম নেওয়ায় আমরা গর্বিত। তবে আগামী কয়েকদিন সদ্যোজাতদের সুস্থ থাকাটা খুব জরুরি বলে জানিয়েছে জু কর্তৃপক্ষ। তাই আপাতত কড়া নজরে রাখা হয়েছে ওই দুই নবজাতককে। হাও হাও যাতে নিজের সন্তানের ঠিকভাবে দেখভাল করে এবং ঠিকমতো দুধ খাওয়ায়, সে দিকেও নজর রয়েছে জু কর্তৃপক্ষের। এ দিকে সদ্য মা হয়েছে হাও হাও। তারও তো দেখভাল প্রয়োজন। তাই মাকে রেস্ট দিতে মাঝে মাঝেই সন্তানদের রাখা হচ্ছে ইনকিউবেটরে। বোতলে করে খাওয়ানো হচ্ছে দুধ।

    তবে দুই যমজ সন্তানের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা নিয়ে খানিক আশঙ্কায় রয়েছে চিড়িয়াখানার আধিকারিকরা। অনেকেই বলছেন, মানুষ হোক বা প্রাণী—-সমজ সন্তানের জন্ম হলে অনেকসময় একটি সন্তান মারা যায় অল্পদিনের মধ্যেই। তবে এই বিরল প্রজাতির পান্ডাদের ক্ষেত্রে যাতে তেমন না হয়, সে জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বেলজিয়ামের ওই চিড়িয়াখানা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More