হোয়াইট হাউস ঘিরে বিক্ষোভ, মাটির নীচে বাঙ্কারে আশ্রয় নিলেন ট্রাম্প

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থতায় এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্বেষ বাড়ছিল। তার মধ্যে মিনেসোটায় পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষাঙ্গ যুবকের হত্যার ঘটনা এই বিদ্বেষের আগুনে ঘি ঢেলেছে। গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। বাদ নেই ট্রাম্পের প্রাসাদ হোয়াইট হাউসও। তার সামনে বিক্ষোভ শুরু হতেই ট্রাম্পকে নিয়ে যাওয়া হয় মাটির নীচে থাকা বাঙ্কারে।

    শনিবার থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রথমে মিনেসোটায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকশ দোকান ভাঙচুর হয়। থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা নামাতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে বিক্ষোভ নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ওয়াশিংটন ডিসিতেও।

    রবিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামাতে হয় সেনা। কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষাকর্মীরা তাঁকে নিয়ে যান হোয়াইট হাউসের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের তরফে এই খবর জানানো হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ বাঙ্কারের মধ্যেই ছিলেন ট্রাম্প। যদিও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকেও বাঙ্কারের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

    জানা গিয়েছে, প্রথমে যখন বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন বিক্ষোভকারীদের মাঝপথেই আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সিক্রেট সার্ভিস ও পুলিশের। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এতে নাকি রীতিমতো ঘাবড়ে যান ট্রাম্প। ফলে সুরক্ষার জন্যই তাঁকে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাঠানো হয়।

    ২৫ মে মিনেসোটাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের ওই কৃষাঙ্গ যুবককে হেফাজতে নেওয়ার সময় রাস্তাতেই তাঁর গলায় নিজের হাঁটু দিয়ে চেপে রাখেন পুলিশকর্মী ডেরেক শভিন। বারবার জর্জ আকুতি জানাচ্ছিলেন, তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। কিন্তু কিছুতেই পা তোলেননি ডেরেক। কিছুক্ষণ পরে সেখানেই মৃত্যু হয় জর্জের।

    মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি কমিশনার জন হ্যারিংটন বলেছেন, গত সোমবার (২৫ মে) হ্যান্ডকাফ পরা ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট চেপে ধরে থাকেন ডেরেক শভিন নামের ওই পুলিশকর্মী। এই অত্যাচারের ভিডিও পথচারীরা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের নামে স্লোগান দিতে দিতে বলেন ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’।

    এই ঘটনার পরেই ডেরেক – সহ চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। জর্জকে খুনের দায়ে ডেরেককে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু তারপরেও বিক্ষোভ চলছে আমেরিকায়। আর এই বিক্ষোভের ভয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে লুকোতে হচ্ছে ট্রাম্পকেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More