সুদূর কানাডাতে আস্ত একটা জনপদের নাম মেদিনীপুর, জানতেন কি?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: খড়্গপুর, গড়বেতা কিংবা ডেবরা নয়। এই মেদিনীপুরের এক দিকে ফিশক্রিক পার্ক, এক দিকে ম্যাকলেয়ড ট্রেল এবং অন্য এক দিকে সান ভ্যালি বুলেভার্ড। বাংলা ছাড়াও মিদনাপুর রয়েছে এই পৃথিবীতে। বাংলা থেকে অনেক দূরে কানাডায়।

    জানা গিয়েছে, ১৮৩৩ সাল থেকে কানাডার আলবার্টা প্রদেশে অবস্থিত এই জনপদের নাম মিদনাপুর। কিন্তু কেন এমন নাম? এই ইতিহাস সন্ধানে নেট পাড়া ঘুরলে জানা যাচ্ছে বেশ কিছু গল্প। কোনওটারই নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ নেই। সবটাই লোকমুখে প্রচলিত।

    কানাডার এই মেদিনীপুরের আগের নাম ছিল ফিশক্রিক। প্রচলিত আছে, জন ব্লেন নামের ফিশক্রিকেকের এক সাহেব একদিন একটি চিঠি হাতে পান। তাতে নাকি ঠিকানা লেখা ছিল মিদনাপুরের। সেই চিঠি কোনও কারণে পৌঁছে যায় কানাডার ওই জনপদে। সাহেব জন ব্লেন ওই চিঠি দেন তাঁর প্রতিবেশী স্যামুয়েল শ’কে। স্যামুয়েল ছিলেন প্রথম পোস্ট মাস্টার। ব্লেন ভেবেছিলেন, পোস্ট মাস্টার নিশ্চয়ই ঠিকানা বলে দেবেন। কিন্তু তিনিও নাকি বলতে পারেননি। তারপর এই স্যামুয়েলই নাকি ফিশক্রিকের নামকরণ করেন মিদনাপুর।

    আরও একটি কাহিনী প্রচলিত আছে স্যামুয়েলকে নিয়ে। জানা যায়, নিজের ছোট্ট মেয়েকে বসিয়ে ওই জনপদের নাম ঠিক করতে বসেছিলেন তিনি। সেটাও ওই অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগেই। কথিত আছে, মেয়ের হাতে একটি পৃথিবীর ম্যাপ ধরিয়ে স্যামুয়েল বলেন জায়গা চিহ্নিত করতে। তাঁর মেয়ে নাকি হাত দেয় ভারতে। তারপর আঙুল ঠেকায় মেদিনীপুরে। তখন থেকেই নাকি এই জনপদের নাম ফিশক্রিক থেকে করা হয় মেদিনীপুর।

    আরও যে কাহিনীর কথা শোনা যায়, তাতে নাম জড়িয়ে রয়েছে এক ইংরেজ নৌসেনা অফিসারের। ক্যাপ্টেন বয়নটন নামের ওই ব্রিটিশ অফিসার কর্মরত ছিলেন ভারতে। তিনিই নাকি মিদনাপুর নাম নিয়ে কানাডায় যান। এবং ওই জনপদে থাকতে শুরু করেন। তারপর থেকেই কানাডাতেও মেদিনীপুর।

    পাহাড় ঘেরা শহরের টলটলে নীল জলের একটি লেক। গেটের মুখে বোর্ড ঝোলানো ‘মেদিনীপুর লেকে আপনাকে স্বাগত।’ ইন্টিরিয়র শপের নাম ‘মেদিনীপুর পেইন্ট অ্যান্ড ডেকর’। এ দেশে একই নামের জায়গা কম নেই। কিন্তু সুদূর কানাডায় এমন একটি মেদিনীপুর আছে তা হয়তো অনেকেরই জানা ছিল না। ওই মিদনাপুরে থাকা প্রবাসী কোনও বাঙালি যদি কলকাতার বাড়িতে ফিরে কথায় কথায় বলেন, “মেদিনীপুর থেকে আসার জেটল্যাগ এখনও কাটেনি!” তাহলে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন এই ভেবে, মেদিনীপুর থেকে আসতে আবার জেটল্যাগ কিসের!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More