করোনা: আমেরিকায় মৃত্যু গত দু’দিনে দ্বিগুণ, পরিস্থিতি সামলাতে মরিয়া প্রশাসন  

এই মুহুর্তে মার্কিন মুলুকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২২২৯। শুক্রবার থেকে এই সংখ্যাটা দ্বিগুণ বেড়েছে। সংখ্যাটা সবথেকে বেশি নিউইয়র্কে। শুধুমাত্র এই শহরেই ৫২ হাজারের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৭০০ জনেরও বেশি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় সব দেশকে ছাপিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৭৬। আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও এতদিন ট্রাম্পের দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল অনেকটাই কম। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাও বাড়ছে। জানা গিয়েছে, গত দু’দিনে আমেরিকাতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে চিন্তায় মার্কিন প্রশাসন।

    এই মুহুর্তে মার্কিন মুলুকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২২২৯। শুক্রবার থেকে এই সংখ্যাটা দ্বিগুণ বেড়েছে। সংখ্যাটা সবথেকে বেশি নিউইয়র্কে। শুধুমাত্র এই শহরেই ৫২ হাজারের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৭০০ জনেরও বেশি। আর এই বৃদ্ধি চিন্তায় ফেলেছে প্রশাসনকে। এমনিতেই সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্ত সেখানে। তাই যদি একবার এই মৃত্যুর ট্রেন্ড ইতালি বা স্পেনের ধাঁচে এগোতে থাকে তাহলে এই মৃত্যু কোথায় গিয়ে থামবে কেউ বলতে পারছে না।

    এর মধ্যে রীতিমতো উদ্বেগজনক কথা শুনিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্কুল অব মেডিসিন। সেখানকার এক ডেটা অ্যানালিস্ট বলেছেন, সম্ভবত জুন মাস অবধি অতি মহামারীর প্রকোপ চলবে আমেরিকায়। তাতে মারা যেতে পারেন ৮১ হাজার মানুষ।

    ওই ডেটা অ্যানালিস্ট আরও বলেছেন, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবেন। কয়েকটি রাজ্যে অতিমহামারীর দাপট চরমে উঠবে সম্ভবত আরও কিছু পরে। জুন মাসে তার প্রকোপ কমলেও জুলাই অবধি অব্যাহত থাকবে মৃত্যু। তবে জুন মাসের শেষের দিকেই দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে গড়ে ১০ এর কম।

    কয়েক দিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে বিশ্বজুড়ে কী হারে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। সেই পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রথম ১ লক্ষ আক্রান্তে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। পরের ১ লক্ষ পৌঁছতে সময় লাগে ১১ দিন। তারপরের ১ লক্ষ আক্রান্তে পৌঁছতে মাত্র ৪ দিন সময় লেগেছিল। অর্থাৎ একবার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে হু হু করে বাড়ে আক্রান্তের সংখ্যা। সেটাই হয়েছে আমেরিকায়। এবার মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে গুণত্তর প্রগতিতে। আর তাতেই চিন্তার ছাপ প্রশাসনে।

    এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ১০০ শতাংশ ফান্ড ইমারজেন্সি জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেডেরাল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশজুড়ে করোনা মোকাবিলায় যা যা করা সম্ভব সব করতে হবে। যে জায়গাগুলিতে এর প্রকোপ বেশি, সেই জায়গাগুলিকে দেশের অন্যান্য প্রদেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখার চেষ্টা চলছে। এখন দেখার এই পদ্ধতিতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে আমেরিকা সফল হয় কিনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More