কুকুর ভেবে আদর করা হলো, একটু আরামও দেওয়া হলো, কিন্তু তারপর…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছিল কুকুর। হয়ে গেল নেকড়ে।

    উত্তর ইউরোপের শহর ইস্টোনিয়া। আর সেখানেই বরফ জমাট এক নদীর কাছাকাছি চলছিল নির্মাণের কাজ। আচমকাই কয়েকজন কর্মী দেখতে পান বরফ জমাট নদীর মধ্যে কী যেন একটা নড়ছে। ছুটে যান নির্মাণকর্মীরা। এক ঝলক দেখে মনে হয় বরফে আটকে গিয়েছে একটি কুকুর। তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামেন ওই নির্মাণ কর্মীরা।

    বরফ থেকে তোলার পরেই ওই কুকুরটিকে নিয়ে সোজা ভেটেরেনারি ক্লিনিকে ছুট দেন কয়েকজন নির্মাণকর্মী। কিন্তু ক্লিনিকে ঢুকতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এ যে আস্ত একটা নেকড়ে! তাও আবার একদম বন্য! ইস্টোনিয়ার পারনু নদীর পাশেই রয়েছে সিন্দি ড্যাম। ওই ড্যামেই নির্মাণের কাজ চলছিল।

    নির্মাণ কর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারের পরে তাঁদের একটুও সন্দেহ হয়নি যে ওটা কুকুর নয়, নেকড়ে। এক কর্মী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমার কোলেই চুপচাপ শুয়ে ছিল ও। দেখেই মনে হচ্ছিল খুব ভয় পেয়েছে। একবার ওর পাগুলো টানটান করে দিতে যাই। তখন শুধু মাথা তুলে একবার তাকিয়েছিল।” কিন্তু ভেটেরেনারি ক্লিনিকে যাওয়ার পরেই প্রকাশ্যে আসে কুকুররূপী নেকড়ের আসল চেহারা। গরম জলে ভেজা তোয়ালে দিয় গা মোছাতেই ঝুরঝুর করে আলগা হতে থাকে লোমের ডগায় আটকে থাকা বরফ। আর তারপরেই আসল চেহারা নেয় ওই কুকুর। তীক্ষ্ণ চাউনি, হাতে-পায়ের নখ, তেজি-একরোখা হাবভাব দেখে চিকিৎসকরা নিমেষেই বুঝে যান এ জিনিস কুকুর নয়, বরং বুনো নেকড়ে। 

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নেকড়েটির লোমে আটকে গিয়েছিল বরফে গুঁড়ো। নেমে গিয়েছিল দেহের তাপমাত্রাও। রক্তচাপও স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গিয়েছিল। আর এই সবের প্রভাবেই বোধহয় নেতিয়ে পড়েছিল নেকড়েটি। কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিল সহজাত প্রবৃত্তি। তাই এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন নেকড়েটিকে উদ্ধার করে ক্লিনিকে আনা নির্মাণকর্মীরা। নইলে রক্ষকদের ভক্ষণ করতে বেশিক্ষণ লাগতো না ওই নেকড়ের। 

    পরিসংখ্যান বলছে, ইস্টোনিয়ায় রয়েছে মাত্র ২০০টি নেকড়ে। এ অবস্থায় একটি নেকড়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় বেজায় খুশি ইস্টোনিয়ার প্রশাসন। খুশি হয়েছেন চিকিৎসকরাও। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ওই নেকড়ের ছবি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সুস্থই রয়েছে ওই নেকড়ে। সঠিক সময় তাকে ক্লিনিকে আনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে গোটা ইস্টোনিয়া। নেটিজেনরাও প্রশংসা করেছেন ওই নির্মাণকর্মীদের। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছে ওই নেকড়ে। ইতিমধ্যেই তার ছবি হয়েছে ভাইরাল। হু হু করে বাড়ছে লাইকের সংখ্যাও।  আপাতত জিপিএস কলার পরিয়ে বনেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে নেকড়েটিকে।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More