চরম খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে ধরে নিয়ে যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ান, সেনাবাহিনীর উদ্দেশে চিনা প্রেসিডেন্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণকে আরও বাড়িয়ে তোলার জন্য মঙ্গলবার দেশের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উদ্দেশে শি-র স্পষ্ট বার্তা, “অতিশয় খারাপ পরিস্থিতির কথা আগাম ভেবে রেখে, সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। যাতে দ্রুততার সঙ্গে এবং দক্ষতার সঙ্গে সব রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। আর তার মাধ্যমে দৃঢ়তার সঙ্গে রক্ষা করা যায় দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বার্থকে।”

    লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তখন পিএলএ-র উদ্দেশে চিনা প্রেসিডেন্টের এ হেন বার্তা অর্থবহ কিনা তা বোঝার চেষ্টা শুরু করেছেন অনেকেই। বিশেষ করে যখন ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সেনা মোতায়েন আচমকাই বাড়িয়ে দিয়েছে পিএলএ। এমনকি তিব্বতের গাড়ি কুনসা বিমানবন্দরে রাতারাতি বায়ুসেনা ঘাঁটি তৈরি করেছে চিন।

    চিনের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হলেন শি। সেই সঙ্গে তিনি পদাধিকার বলে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিটির চেয়ারম্যান।

    চিনের আইনসভা তথা ত্রয়োদশ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশন এখন চলছে। সেখানে একটি প্লেনারি সেশনে বক্তৃতা প্রসঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “কোভিড মহামারী আন্তর্জাতিক পটভূমিতে প্রভূত প্রভাব ফেলেছে। চিনের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রশ্নে তার তাৎপর্য রয়েছে। মহামারী মোকাবিলার পাশাপাশি ভ্যাকসিন ইত্যাদির জন্য সামরিক গবেষণাও বাড়াতে হবে”। এদিনের সেশনে চিনা প্রেসিডেন্টের বক্তৃতার আগে মিলিটারি ডেপুটিরা সামরিক প্রস্তুতির কথা ব্যাখ্যা করেন। কোভিড মোকাবিলায় তাঁদের প্রস্তুতির কথাও জানান তাঁরা।

    এখন প্রশ্ন, অতিশয় খারাপ পরিস্থিতি বলতে কীসের ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন শি জিনপিং?

    তার ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেননি। শি-র বক্তৃতার পর চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি এদিনের বক্তৃতায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বাড়ানোর কথা বলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, “সামরিক বাহিনীতে আরও সংস্কার ও নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ‘বায়ো সিকিউরিটি ডিফেন্সের’ ক্ষমতা বাড়াতে হবে”।

    চিনের সামরিক উন্নয়ন ও ক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে ত্রয়োদশ পঞ্চবার্ষিকী যোজনা এ বছর শেষ হচ্ছে। শি এদিন বলেছেন, মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সুনিশ্চিত করতে হবে যোজনা অনুযায়ী সমস্ত লক্ষ্যপূরণ যেন হয়। সেই সঙ্গে আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তা ছাড়া দেখতে হবে সামরিক খাতে পাই পয়সা যেন সঠিক ভাবে খরচ করা হয়।

    আরও পড়ুন সীমান্তে চিনের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আজ থেকে সেনা কমান্ডারস কনফারেন্স শুরু হচ্ছে সাউথ ব্লকে

    প্রসঙ্গত, গত ২২ মে সামরিক খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৭৯ বিলিয়ন ডলার করেছে চিন। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটের তিনগুণ।

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লাদাখ সীমান্তে ভারতের সঙ্গে যেমন সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে চিন, তেমনই চিনের উদ্বেগও কম নয়। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ চিন সাগর, তাইওয়ান স্ট্রেইটে চিনের বাণিজ্য সুরক্ষিত রাখা নিয়ে চাপ রয়েছে বেজিংয়ের। দক্ষিণ চিন সাগর এবং তাইওয়ান স্ট্রেইটে মার্কিন নৌবাহিনী ইতিমধ্যে তাদের টহলদারি বাড়িয়েছে। চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই রবিবার স্পষ্টতই বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শীত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি। হতে পারে কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কিছুটা কোণঠাসা হয়েই সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর কথা বলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More