পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা না তুললে আমেরিকানদের আটক করা হবে, হুঁশিয়ারি চিনের

১২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ফের একবার বিতর্ক দেখা দিল আমেরিকা ও চিনের মধ্যে। আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে সেনার তরফে দায়ের চিনের যে সব পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে তা না তুলে নেওয়া হলে চিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আটক করা হবে, এমনটাই হুঁশিয়ারি দিল চিন। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকাকে নাকি এই বিষয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং।

শনিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমে চিনের তরফে এই বার্তা আমেরিকার কাছে পাঠানো হচ্ছে। আমেরিকার অনেক সরকারি আধিকারিক সেটা জানেন। যদিও কারও নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। চিনের তরফে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, আমেরিকার বিভিন্ন কোর্টে চিনের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে তা যেন বন্ধ করা হয়। নইলে চিনে বসবাসকারী আমেরিকানদের আইন ভাঙার অপরাধে আটক করা হবে।

এই বিষয়েই গত ১৪ সেপ্টেম্বর আমেরিকার স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে একটি অ্যাডিভাইজরি জারি করে মার্কিন নাগরিকদের চিনে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের আটক করে সেই দেশের উপর চাপ তৈরি করতে পারে চিন।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের তরফে স্বরাষ্ট্র দফতরকে একটি ইমেল করে জানানো হয়েছে, চিনের সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে, যাতে চিনে বসবাসকারী আমেরিকানদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ চিনের সরকার না নিতে পারে। চিনে বসবাসকারী আমেরিকান ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনও রকমে নিষেধাজ্ঞা জারি না করা যায় এবং সবকিছু পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ভাবে হয়, সেটাই আমেরিকার প্রাথমিক বিচার্য বিষয়। যদিও এই বিষয়ে ওয়াশিংটনে থাকা চিনা দূতাবাসের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে চিনের বিরুদ্ধে আমেরিকার উপর সাইবার হানার অভিযোগ তুলেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযোগ করা হয়েছিল, আমেরিকার প্রশাসন ও সেনার অনেক গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বেজিং। তার জন্য টেকনোলজিকে হাতিয়ার করেছে তারা। তারপরেই টিকটক ও একাধিক চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে আমেরিকায়। যদিও চিনের তরফে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জুলাই মাসে এফবিআই তিন চিনা নাগরিককে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সদস্য হওয়ার পরে আমেরিকায় গবেষণার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছরের জেল ও ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা হতে পারে তাঁদের। এই ঘটনার পরেই ক্ষুব্ধ হয়েছে চিন। তাই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

গত মাসে আমেরিকা জানায়, সেখানে পড়তে আসা হাজারের বেশি চিনা পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। সুরক্ষা নিয়ে সমস্যা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই জানায় ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে চিন। এবার জানা গেল, আমেরিকাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে শি জিনপিং সরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More