মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

‘বাবাকে শুভেচ্ছা জানান’, জন্মদিনে বিজ্ঞাপন ছেলেদের, ফোনের ঠ্যালায় বাবার অবস্থা কাহিল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তার পাশে লাগানো বিশাল বিলবোর্ড। তাতে লেখা রয়েছে, “আমার বাবাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান।” নীচে আবার দেওয়া রয়েছে যাঁর জন্মদিন, তাঁর ফোন নম্বরও। সঙ্গে লেখা রয়েছে বিজ্ঞাপনদাতার পরিচয়। বাবার জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলেন দুই ছেলে। তবে সে সারপ্রাইজে যেন থাকে ভরপুর মজা। এটাই ছিল লক্ষ্য। অনেক ভেবে তাই উপায় বের করলেন দুই ছেলে। সটান বিজ্ঞাপনই দিয়ে বসলেন বাবার জন্মদিনের।

ছেলেদের এ হেন সারপ্রাইজের ঠ্যালায় বাবার অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। জন্মদিনের সকাল থেকেই ফোনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন-পরিচিত-বন্ধু-বান্ধবরা তো আছেনই। তার সঙ্গে এসে জুটছে অচেনাদেরও ফোন। সবাই গদগদ হয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন নিউ জার্সির বাসিন্দা ৬১ বছরের ক্রিস ফেরিকে। ইতিমধ্যেই এসেছে প্রায় ২০ হাজার ফোন। সঙ্গে উপরি পাওনা হাজারখানেক মেসেজ।

পেশায় ইনস্যুরেন্স এজেন্ট ক্রিসের দুই ছেলে। ক্রিস্টোফার এবং মাইকেল। ক্রিস্টোফার জানিয়েছেন, “ছোট থেকেই বাবার জন্মদিন নিয়ে আমরা দু’ভাই নানান মজা করতাম। বাবার জন্মদিন নয় এমন দিনে অন্যদের বলতাম আজ আমার বাবার জন্মদিন। হকি খেলতে যেতাম যখন, তখন হোটেলের সবাইকে বলতাম আজ আমার বাবার জন্মদিন।” ছোটবেলার এইসব স্মৃতি মাঝে মাঝেই মাথায় ঘুরতো দু’ভাইয়ের। এই বছর বাবার জন্মদিনে তাই ছোটবেলার মতোই মজা করবেন বলে ঠিক করেছিলেন ক্রিস্টোফার এবং মাইকেল। আর তাই এই কাণ্ড করেছেন দু’ভাই। ২ হাজার ডলার খরচ করে বিলবোর্ড ভাড়া করে বাবার জন্মদিনের বিজ্ঞাপন টাঙিয়ে দিয়েছেন অ্যাটলান্টিক সিটির পাশে একটি হাইওয়েতে।

খুব কম বয়সেই ক্রিস্টোফার এবং মাইকেল দু’জনেই জড়িয়ে পড়েছিলেন ড্রাগের নেশায়। অনেক কষ্টে ড্রাগের প্রতি আসক্তি কমে দু’জনের। আপাতত তাঁরা ফ্লরিডার বাসিন্দা। ড্রাগ আসক্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য রিহ্যাব চালান দুই ভাই। ছোটবেলাতেই ড্রাগের নেশায় জড়িয়ে যাওয়ায় আর পাঁচজনের মতো ছেলেবেলাটা কাটেনি ক্রিস্টোফার এবং মাইকেলের। বাবার সঙ্গেও পরিস্থিতির চাপে তৈরি হয়েছিল দূরত্ব। বড় হয়ে তাঁরা বুঝেছেন, দুই ভাইয়ের আচরণে একসময় বেশ কষ্টই পেয়েছেন ক্রিস। কিন্তু হাজার হোক বাবা তো। তাই শত কঠিন পরিস্থিতিতেও সন্তানদের ফেলতে পারেননি। সঠিক পথে ফেরানোর জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। অবশেষে সফলও হয়েছেন ক্রিস। কারণ আজ তাঁর দুই ছেলেই ফিরে এসেছে জীবনের মূল স্রোতে। এখন তাঁরা সুপ্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু বড় হয়ে নিজেদের ব্যবহার-আচরণের জন্য অনুতাপ হতো ক্রিস্টোফার এবং মাইকেলের। সব সময়েই ভাবতেন বাবাকে কী ভাবে আনন্দ দেবেন। এমন কী করবেন যাতে বাবা সবসময় খুশি থাকেন। এই বছর তাই অনেক আগে থেকেই বাবার জন্মদিনের সারপ্রাইজ প্ল্যান করছিলেন। ভেবেছিলেন এ বার জন্মদিনে বাবাকে দারুণ চমকে দেবেন। হলোও তাই। ছেলেদের এমন সারপ্রাইজের চোটে আপাতত পরিবার নিয়ে বেড়াতে চলে যেতে হয়েছে ক্রিস ফেরিকে। কারণ জন্মদিন পেরিয়ে গেলেও ৬ এপ্রিল পর্যন্ত হাইওয়ের ধারে টাঙানো থাকবে ওই বিলবোর্ড। প্রতিদিনের শুভেচ্ছা বার্তার চোটে নাজেহাল হওয়ার আগেই তাই ফোন নম্বরও বদলে ফেলেছেন ক্রিস।

Shares

Comments are closed.