রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

বিয়ের প্রথম রাতে রক্ত পড়বে এই ক্যাপসুলে! স্মার্টফোনে জ্বলজ্বল করছে আধুনিকতার নিদারুণ পরিহাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোর জি পার করে ফাইভ জি আসতে চলেছে। গোটা দুনিয়ার তথ্য হাতের মুঠোয়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাঁদে মহাকাশযান পাঠিয়ে ফেলেছি আমরা। পেয়েছি নোবেল পুরস্কার। সুপার কম্পিউটার বাজারে আসা সময়ের অপেক্ষা। এই দ্রুতগতির আধুনিক জীবনে ছুটে তো চলেছি আমরা। কিন্তু মনের দিক থেকে এগোতে পেরেছি কতটা? এই প্রশ্নই তুলে দিল অনলাইন বিপণী সংস্থা আমাজনের একটি প্রোডাক্ট। যাবতীয় আধুনিকতার অহংকার যেন খসে পড়ল তার আত্মপ্রকাশে।

বিয়ের পরে প্রথম শারীরিক সম্পর্কের সময়ে মেয়েদের ‘সতীত্ব’ প্রমাণ করে রক্তপাত– একটা সময় পর্যন্ত এমনই ধারণা ছিল সমাজের বিভিন্ন স্তরে। এখন সময় বদলেছে, কিন্তু ধারণা বদলেছে কি? বদলায়নি বলেই, আই-ভার্জিন নামে একটি ট্যাবলেটের বিক্রি শুরু হয়েছে আমাজনে। তার কার্যকারিতা শুনে কার্যত চোখ কপালে তুলছেন সকলে। ওই ট্যাবলেটটির মাধ্যমে নাকি বিয়ের প্রথম রাতে ‘নকল রক্তপাত’ ঘটিয়ে সতীত্বের প্রমাণ দিতে পারবেন মহিলারা!

মহিলাদের যোনির ভিতরে যে পাতলা পর্দা থাকে, তাকে বলা হয় হাইমেন বা সতীচ্ছদ। যৌনমিলনের সময়ে এই হাইমেন ছিঁড়ে রক্ত পড়ে অনেকের। তাই একটা বড় অংশের মানুষের এখনও বিশ্বাস, বিয়ের প্রথম রাতের মিলনে মহিলার যোনি থেকে রক্তপাত হওয়া মানে এর আগে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়নি তাঁর। তাই এখনও প্রথম রাতে বহু মেয়েকে বিছানার চাদর রক্তাক্ত করে প্রমাণ দিতে হয়, তাঁর চরিত্রে কোনও দোষ নেই। ‘সতীত্ব’ অক্ষত রয়েছে তাঁর। শুধু তাই নয়, রক্তপাত না হলে, বহু পরিবারে সন্দেহের চোখে দেখা হয় সদ্যবিবাহিতাকে।

কিন্তু এ সবই অশিক্ষা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন প্রান্তিক সমাজের কথা। আমাজনের প্রোডাক্ট পৌঁছনোর কথা নয় তাঁদের কাছে। তা হলে এ প্রোডাক্ট কিনছে কারা? নিশ্চয় স্মার্টফোন হাতে আছে এমন আধুনিক, শহুরে মানুষরাই?

চিকিৎসকেরা অবশ্য বলছেন, হাইমেন অক্ষত থাকা বা না থাকার সঙ্গে শারীরিক মিলনের কোনও কারণ নেই। কারণ সাইক্লিং, সাঁতার, যোগব্যায়ম বা অন্য কোনও স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত থাকা বা অন্য আরও একাধিক কারণের জন্য হাইমেন বা সতীচ্ছদ অক্ষত নাও থাকতে পারে। কিশোরী বয়সেই ছিঁড়ে যেতে পারে হাইমেন। ফলে সে ক্ষেত্রে বিয়ের আগে হোক বা পরে, যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সময়ে রক্তপাতের প্রশ্নই ওঠে না।

অথচ সমাজের এই ভুল ও বস্তাপচা ধারণাকেই বাণিজ্যিক ভাবে প্রোমোট করছে আই-ভার্জিন নামের পণ্যটি! ৩,১০০ টাকা দিয়ে কিনে বিয়ের প্রথম রাতে মেয়েদের ‘সতীত্বের’ প্রমাণ দেওয়ার সহজ পণ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এটি। তাদের দাবি, সতীচ্ছদ অক্ষত না থাকলেও এটি ব্যবহার করলে প্রথম রাতে রক্তপাত নিশ্চিত। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। শল্য চিকিৎসা না করিয়ে সহজেই কার্যসিদ্ধি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আই ভার্জিন এই প্রথম ব্যাপার নয়। বহু শহরেই এমন অনেক ক্লিনিক রয়েছে, যেখানে টাকার বিনিময়ে অস্ত্রোপচার করিয়ে যোনির ভিতরে ফের তৈরি করে নেওয়া যায় একটি পর্দা বা হাইমেন। সেসব ক্লিনিকের লাভ কিন্তু কম নয়! সমাজের অশ্লীল দাবিতে নতজানু হয়ে বহু মহিলাই বিয়ের আগে অস্ত্রোপচার করিয়ে নিচ্ছেন সেখানে। তাই এমনটা মনে হওয়ার কোনও কারণ নেই, যে শিক্ষা ও আধুনিকতার অভাবে এমন মানসিকতা জন্ম নিচ্ছে।

এ মানসিকতা যেন জগদ্দল। হাজার ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নেও বদলানোর নয় কিছু ক্ষেত্রে। যার সুযোগ নিচ্ছে আই ভার্জিনের মতো প্রোডাক্ট এবং আমাজনের মতো সংস্থা। তবে এই প্রোডাক্ট বিক্রি শুরু হওয়ার পরে, প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে আপাতত ওয়েবসাইট থেকে সেটি উঠিয়ে দিয়েছে আমাজন।

Comments are closed.