মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

হায়দরাবাদ কাণ্ডের জের! তরুণী নিখোঁজ জানার পরেই এই প্রথম ‘জিরো এফআইআর’ নিল সে রাজ্যের পুলিশ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওযাল ব্যুরো: তেলঙ্গানায় সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে হায়দরাবাদ গণধর্ষণে অভিযুক্ত চার ধর্ষককে এনকাউন্টা করে হত্যা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দায়ের হল রাজ্যের প্রথম ‘জিরো এফআইআর’। শনিবার সকালে সুবেদারি থানায় দায়ের হয় ওয়ারঙ্গলের ২৪ বছরের একটি মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি। পরে তা অনলাইনে পাঠানো হয় সয়মপেট থানায়।

কী এই জিরো এফআইআর?

২০১২ সালে দিল্লির গণধর্ষণ-কাণ্ডের পরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জে এস বর্মার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি ‘জ়িরো এফআইআর’ প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দেয়। এর পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বাধ্যতামূলক ভাবে ‘জিরো এফআইআর’ নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেয়।

এই নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও থানায় যে কোনও এলাকার ঘটনা সম্পর্কে এফআইআর দায়ের করা যায়। সাধারণ এফআইআর-এ যেমন একটি নাম্বার পাওয়া যায় পুলিশ স্টেশন থেকে, জিরো এফআইআর-এ তা পাওয়া যায় না। পরে সেই এফআইআরটি নির্দিষ্ট পুলিশ স্টেশনে ট্রান্সফার করা হলে তখন নম্বর পাওয়া যায় এফআইআর-এর। সাধারণত খুন, ধর্ষণ বা এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ক্ষেত্রে এই এফআইআর নেওয়ার কথা পুলিশের।

আইন অনুযায়ী, জিরো এফআইআর দায়ের হওয়ার পরে, তা নির্দিষ্ট থানায় সরানোর আগেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ করে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য পুলিশ। এফআইআরের কাগজের উপরে ‘জিরো এফআইআর’ কথাটি লিখে দিতে হবে কেবল। ওই এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও করতে পারে। কোথায় অভিযোগ হবে, তা অভিযোগকারীর ভাবারই কথা নয়।

হায়দরাবাদ গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতা ও নিহত তরুণীর বোন অভিযোগ করেছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরে অভিযোগ দায়ের করতেই দু’ঘণ্টা ধরে এই থানা থেকে ওই থানা ঘুরতে হয়েছে তাঁদের। রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থানা থেকে শামশাবাদ থানায় যেতে হয় তাঁদের। তবে দায়ের হয় অভিযোগ, তার পরে শুরু হয় তদন্ত। তত ক্ষণে পেরিয়ে গেছে বেশ খানিকটা অমূল্য সময়। তা না হলে, সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু হলে হয়তো আরও আগেই ধরা পড়ত অভিযুক্তরা, নির্যাতিতাকে বাঁচানোর সুযোগও হয়তো পাওয়া যেত।

হায়দরাবাদ কাণ্ডের পরে স্বাভাবিক ভাবেই অনেক বেশি তৎপর দক্ষিণের পুলিশ। তাই শনিবার সকালে ওয়ারঙ্গলের একটি পরিবারের তরফে যখনই সুবেদারি থানায় এসে জানানো হয় মাঝরাত থেকে তাঁদের মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না, তখনই জিরো এফআইআৎ দায়ের করে ওই থানার পুলিশ। সয়মপেট থানা এলাকার ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পাঠানো হয়নি তাঁদের। পরে ট্রান্সফার করা হয় এফআইআরটি।

একের পর এক ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনাগুলি নিয়ে নড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। সমস্ত রাজ্য ও তাদের পুলিশকে মহিলা নির্যাতন ও নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলি আটকানোর জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সুরক্ষা বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রকের সেক্রেটারি অজয় ভাল্লার বক্তব্য, পুলিশ যদি সব ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে কাজ করে, তাহলে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ অনেকটাই কমবে। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে স্থান, কাল, পাত্র বিচার না করে তৎক্ষণাৎ জিরো এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার কথাও বলেছেন তিনি।

Share.

Comments are closed.