করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে কি যৌন সঙ্গম করা যায়, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে গৃহবন্দি সকলে। এই অবস্থায় বাড়িতে থেকেও অনেকেই কিছু না কিছু আমোদ-বিনোদনের উপায় খুঁজছেন। টিভিতে পুরনো অনুষ্ঠানের পুনঃপ্রচার চলছে। তাই বা কতক্ষণ দেখতে ভাল লাগে। অনেকে নেটফ্লিক্স বা হইচইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মে মুভি বা অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ দেখছেন।

    কিন্তু তাও কাহাতক?

    অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে কি যৌন সঙ্গম করা যায়? নাকি তা উচিত নয়!

    পূর্ব অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন এবং সংক্রামক রোগ বিষয়ের অধ্যাপক পল হান্টার জানিয়েছেন, “ইবোলা বা জাইকার মতো কিছু ভাইরাস ঘটিত রোগের সংক্রমণ সিমেন তথা বীর্যের মাধ্যমে হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ এ ভাবে হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।”

    তাঁর কথায়, “চিন্তাটা সঙ্গম নিয়ে নয়। উদ্বেগ থাকতে পারে, তার আগের ব্যাপার স্যাপার নিয়ে। মানে মুখ থেকে বেরোনো ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তো। তাই ফ্রেঞ্চ কিস বা চুম্বন ইত্যাদি এ়ড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয়। তা বাদ দিয়ে যদি বাকিটা করা যায় তবে মন্দ নয়।”

    অধ্যাপক হান্টার বলেন, যৌন সঙ্গমের সময়ে কারও শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে কিনা, এবং তার ফলে কেউ কাবু হয়ে পড়বেন কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করে সেই ব্যক্তি কতটা শারীরিক ভাবে সুস্থ। ইমিউনিটি কম থাকলে বা শরীর দুর্বল হলে সংক্রামণ মোকাবিলার ক্ষমতাও কম থাকবে।

    এখন প্রশ্ন হল আপনি কি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন, নাকি নিজেকে সবার থেকে সরিয়ে রেখেছেন অর্থাৎ সেল্ফ আইসোলেশনে রয়েছেন? সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার অর্থ হল আপনি সংক্রমণ এড়ানোর জন্য দূরত্ব বজায় রাখছেন। সেল্ফ আইসোলেশন ভিন্ন ব্যাপার। যার মানে আপনি একজনের সংস্পর্শে এসেছেন যিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছে বা সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কিছুটা জটিল।

    আপনি যদি সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে কেবল এক জনের সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্কে থাকেন, এবং সুস্থ থাকেন, তা হলে আপনি স্বাভাবিক জীবনযাপনের মতোই যৌন সঙ্গম করতে পারেন। তা উপভোগ করতে পারেন। অধ্যাপক হান্টারের মতে, এতে কোনও বাধা নেই।

    তাঁর কথায়, “আপনি সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলেন, তা হলে আপনার জীবনসঙ্গী বা পার্টনারের সঙ্গে সঙ্গম করতেই পারেন। বরং সেটা সুস্থতার লক্ষণ”। এমনকি তিনি এও বলেন, আমার তো এ ব্যাপারে ষোল আনা বিশ্বাসী যে খুব শিগগির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়বে।
    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল ঝুঁকির ব্যাপার হল আপনি কত মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। কারণ এমন তো হচ্ছে যে কারও শরীরে করোনা সংক্রমণ হলেও গোড়ায় কোনও উপসর্গ থাকছে না। তখন বোঝার উপায় নেই যে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে গিয়েছে। তাই লকডাউনের সময়ে বা তা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কিছুদিন সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে থাকা উচিত। সেটা প্রত্যেকেরই পরিবারের জন্যই মঙ্গলের।

    হান্টার বলেন, কেউ যদি সেল্ফ আইসোলেশনে থাকেন ব্যাপারটা জটিল তো বটেই। কারণ, নিয়ম মতো কারও শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে অন্তত সাত দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। আর তাঁর সঙ্গে বা সংস্পর্শে কেউ এলে তাঁকে ১৪ দিন সেল্ফ আইসোলেশনে থাকতে হবে। কারণ, নইলে কারও মাধ্যমে তাঁর জীবনসঙ্গীর শরীরেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই কোভিড-১৯ এর মতো উপসর্গ যদি কারও শরীরে দেখা যায় তাঁর উচিত যৌন সঙ্গম এড়িয়ে চলা। শুধু তা নয়, তাই পার্টনারের থেকে দূরত্বও বজায় রাখা। অন্তত ৭ থেকে চোদ্দ দিন। নইলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।
    অধ্যাপক হান্টার আরও জানান, একই বাড়িতে থেকেও একজনের থেকে আর একজনের শরীরে সংক্রামণ ছড়াবেই তা বলা যায় না। সেক্ষেত্রে সংক্রমণের হার ১০০ শতাংশ নয়, মোটামুটি ভাবে দেখা যাচ্ছে ৫০ শতাংশ বা তার কম। তবে অসুস্থ হলে যৌন সঙ্গম না করাই ভাল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More