বাঙালি কতটা খোঁজে বিদ্যাসাগর মশাইকে, জানিয়ে দিল গুগল রিপোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: “বর্ণপরিচয় দিয়ে শুরু, বর্ণপরিচয় দিয়েই শেষ।” বাঙালির বিদ্যাসাগর চর্চা নিয়ে ক’দিন আগেই ফেসবুকে এমনই পোস্ট করেছিলেন এক অধ্যাপক। সেটা কি সত্যি? নাকি, বাঙালি সত্যিই বিদ্যাসাগর মশাইকে নিয়ে সারাটা বছর মজে থাকে?

    এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগলের শরনাপন্ন হতে বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন দেখাল বিস্ময়কর ছবি। অনেকেরই জানা আছে যে, গুগলের একটি অন্যতম পরিষেবার নাম, ‘গুগল ট্রেন্ডস’। এখানে গেলে জানা যায়, বিশ্বের কোথায় কোন নামে কত সার্চ হচ্ছে। কোন সময়কালে সার্চ ইঞ্জিনে কোন নাম বেশি বার টাইপ করা হয়েছে। কত বার ছবি খোঁজা হয়েছে, খবর খোঁজা হয়েছে কিংবা ইউটিউবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিডিও দেখার চেষ্টা হয়েছে।

    আর সেই রিপোর্টই বিস্ময়কর। অমিত শাহর রোড-শো আর তার জেরে গোলমালের পরে কলকাতার বিধান সরণিতে বিদ্যাসাগর কলেজে গোলমাল। আর সেই গোলমালের মধ্যে কে বা কারা যেন বিদ্যাসাগর মশাইয়ের একটি আবক্ষ মূর্তি ভেঙে দিয়েছে। তা নিয়ে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। বলা হচ্ছে শেষ দফার নির্বাচনে ‘মূর্তি’ ইস্যু নাকি মস্ত ভূমিকা নেবে।

    ইতিমধ্যেই পঞ্চধাতুর মূর্তি গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই প্রতিশ্রুতিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, ভোট পর্ব মিটলেই রাজ্য সরকার যে বিদ্যাসাগর কলেজকে হেরিটেজের মর্যাদা দিতে চলেছে সে ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন শিক্ষামন্ত্রী। অর্থাৎ বঙ্গ মানসে এখন উজ্জ্বল বিদ্যাসাগর চিন্তন। কিন্তু সেটা যে মূর্তি ভাঙার পরেই, সে নির্মম সত্যই তুলে ধরেছে গুগল ট্রেন্ডস।

    ইন্টারনেটে বাঙালির বিদ্যাসাগর খোঁজ কতটা তা দেখতে ট্রেন্ডসের শরণাপন্ন হতেই মিলেছে অবাক করা ছবি। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক, সাধারণ ভাবে গত এক মাসে কতটা সার্চ হয়েছে (web search) ‘বিদ্যাসাগর’ নাম। দেখুন ১৪ মে মূর্তি ভাঙার আগে কোথায় ছিলেন তিনি! না, ১৪ মে বিকেল সাড়ে পাঁচটার পরেই বিদ্যাসাগর মশাইয়ের খোঁজ পড়ে গুগলে।

    এবার দেখুন বিদ্যাসগর সংক্রান্ত খবরাখবর (news search)। আসলে বিদ্যাসাগর মশাইকে নিয়ে খবরের খোঁজ হবেই বা কেন? নির্বাচনের প্রচারে মেদিনীপুরে গেলে তবেই না নেতাদের মুখে ‘এ মাটি বিদ্যাসাগরের মাটি’ কথার উল্লেখ আসে।

    এবার বিদ্যাসাগর মশাইয়ের ছবির সার্চ (image search)। গুগল বলছে, সেটার সার্চ সব থেকে বেশি হয়েছে মূর্তি ভাঙার পরের দিন। সম্ভবত, ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে নিজেদের বিদ্যাসাগর-ভক্ত প্রমাণ করতেই এত ছবি দেখার ধুম পড়েছিল।

    সব শেষে ভিডিও। সেটাও ১৪ মে আর ১৫ মে। এই দু’দিনেই বেশি করে ইউটিইউবে ‘বিদ্যাসাগর’ সার্চ হয়েছে।

    এর আগে সার্চ করে খুব যে লাভ হত তাও অবশ্য নয়। পরীক্ষা করতে ইউটিউবে গিয়ে একটি বার vidyasagar লিখুন। চমকে যাবেন না। সার্চে ৯৯.৯৯ শতাংশ ভিডিও আসবে যা ১৪ মের পরে তৈরি হয়েছে।

    এসব দেখার পরে আপনার মনে হতেই পারে বিধবাবিবাহ থেকে বর্ণপরিচয়, নারীশিক্ষা থেকে সাহিত্য সবেতে যাঁর উত্তরাধিকার বহন করে বাঙালি, তাঁর সঙ্গে বাঙালির দৈনন্দিন যোগ ঠিক কতটা। অমুক বিদ্যাসাগর বোঝে না, তমুক বিদ্যাসাগর বোঝে বলে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপাচ্ছেন তাঁরা কেউই আসলে ঠিক নন।

    গুগল রিপোর্ট বলছে, মূর্তি ভেঙে প্রমাণ হয়েছে, বিদ্যাসাগর মশাই ‘মূর্তি’ হয়েই আছেন বাঙালির মননে। নেই প্রতিদিনের যাপনে।

    ১৯৫০ সালে ‘বিদ্যাসাগর’ নামে একটি চলচ্চিত্র বানিয়েছিলেন পরিচালক কালীপ্রসাদ ঘোষ। ঈশ্বরচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা পাহাড়ী সান্যাল। এই মূর্তি ভাঙা কালে সেই ছবিটিতে কতগুলি ক্লিক হয়েছে সে তথ্য অবশ্য দিতে পারেনি গুগল ট্রেন্ডস। তবে ইউটিউব বলছে, গত দু’বছরে সেই ছবি ভিউ পেয়েছে ১০ লাখ ৬৫ হাজার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More