সোমবার, আগস্ট ১৯

কত বেতন, কী মর্যাদার দাবিতে অনশনে প্রাথমিক শিক্ষকেরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনসিটিই-র নতুন নির্দেশ মতো রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা মানা হলেও সেই অনুসারে উপযুক্ত বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষকদের। পিআরটি স্কেলে বেতন দেওয়ার দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন অনশন আন্দোলন চালাচ্ছে। তবে এই আন্দোলনের জন্ম এখানেই নয়। এর আগে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে এনসিটিই-র সদর দফতর পর্যন্ত অভিযানও হয়েছে। একাধিক মামলাও হয়েছে।

কিন্তু কেন এই আন্দোলন? ঠিক কত টাকা বেতন চাইছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা? আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এখন প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার জন্য নতুন নিয়মে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার হয় সেই অনুযায়ী বেতন অনেকটাই কম দেওয়া হচ্ছে রাজ্যে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে পিআরটি স্কেল মেনে বেতন দেওয়া হোক। সর্বভারতীয় নিয়ম মেনে নিয়োগ হলে বেতনও সর্বভারতীয় নিয়মেই দিতে হবে বলে দাবি।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পিআরটি স্কেল ঠিক কী

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তিন ভাগে শিক্ষক নিয়োগ হয়। প্রাইমারি টিচার (পিআরটি), ট্রেইনড গ্র্যাজুয়েট টিচার (টিজিটি) এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার (পিজিটি)। প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষাক নিয়োগের ক্ষেত্রে পিআরটি প্রযোজ্য হয়। আর পিআরটি-র আওতায় নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোও রয়েছে।

সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ লাগু হওয়ার পরে পিআরটি স্কেল এইরকম

গ্রেড পে– ৪,২০০ টাকা
পে স্কেল– ৯,৩০০ টাকা থেকে ৩৪,৮০০ টাকা
বেসিক স্যালারি– ৩৫,৪০০ টাকা
হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্স– (বেসিকের ২৪ শতাংশ) ৩,২৪০ টাকা
ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স– ১,৬০০ টাকা
গ্রস স্যালারি– ৪০,২৪০ টাকা (প্রায়)
নেট স্যালারি– ৩৭,০০০ টাকা (প্রায়)

আন্দোলনকারীদের দাবি, যেখানে সারা ভারতের সমস্ত রাজ্যে গ্রেড পে ৪,২০০ টাকা, সেখানে এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে ২,৬০০ টাকা। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক প্রাথমিক শিক্ষক  বক্তব্য, “অনেকেই ভাবছেন আমরা কেবল টাকা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছি। এটা টাকার লড়াই নয়, সম্মানের লড়াই। আগে প্রাথমিক শিক্ষক হওযার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল মাধ্যমিক পাশ। তখন গ্রেড পে ছিল ২,৬০০ টাকার। কিন্তু এখন নিয়ম বদলে হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে এবং ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএলএড) প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এই যোগ্যতায় গ্রেড পে হওয়া উচিত ৪,২০০ টাকা। আমাদের নিয়োগের নিয়ম বদলেছে, কিন্তু গ্রেড পে বাড়েনি। এটা তো এক রকমের অন্যায়। আমরা আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠার লড়াই করছি। নিছক বেতন বাড়ানো নয়, আমাদের ন্যায্য পাওনাটা দেওয়া হোক।”

এর মধ্যে ২০১৪ সালে শিক্ষকের অভাব পূরণ করতে ডিএলএড প্রশিক্ষণ ছাড়াই কিছু শিক্ষক নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। এখন তাঁদের গ্রেড পে ২৩০০ টাকা। এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের সর্বোচ্চ গ্রেড পে ৩১০০ টাকা। ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে এবং প্রধান শিক্ষক হলে তবেই এই গ্রেড মেলে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, যাঁদের প্রশিক্ষণ নেই তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, সমান ও সর্বভারতীয় গ্রেড পে-র আওতায় আনতে হবে। অর্থাৎ ২৩০০ থেকে ৩১০০– সকলের জন্যই ৪২০০ টাকার গ্রেড পে দাবি করছেন তাঁরা। সারা দেশের প্রতিটি রাজ্যে এটাই নিয়ম আছে। পশ্চিমবঙ্গ কেবল ব্যতিক্রম। ৪২০০ টাকা গ্রেড পে হলে যেখানে পে স্কেল হয় ৯,৩০০ টাকা থেকে ৩৪,৮০০ টাকা , সেখানে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকেরা ২৬০০ টাকার গ্রেড পে-র ভিত্তিতে পাচ্ছেন মাত্র ৫,৪০০ থেকে ২৫,২০০ টাকা।

এই বঞ্চনার প্রতিবাদেই লড়াই চলছে তাঁদের। ন্যায্য পাওনা না পেলে আমরণ এই অনশন চালিয়ে যাবেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

Comments are closed.