বৃহস্পতিবার, জুন ২০

ডিএম কাণ্ডের জেরে আইসি বদলি: মেনে নিচ্ছে না ক্ষুব্ধ ফালাকাটা

নিলয় দাস 

বুধবার রাতেই জানা গিয়েছিল, ফালাকাটা থানায় সস্ত্রীক ডিএম-এর ‘তাণ্ডব’-এর ঘটনায় আইসি সৌম্যজিৎ রায়ের বদলির খবর। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছিল কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সমীরকুমার পালকে। সৌম্যজিৎ রায়কে পাঠানো হয়েছিল সেখানে। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সন্ধে বেলা ফালাকাটাবাসীর ক্ষোভ আছড়ে পড়ল থানার দোরগোড়ায়। দাবি একটাই, আইসি সৌম্যজিৎ রায়কে ফিরিয়ে দিতে হবে তাঁদের এলাকায়।

রবিবার জেলা শাসক নিখিল নির্মল এবং তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণ মিলে পুলিশি হেফাজতে থাকা এক যুবককে থানায় বেধড়ক পেটান। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই জল অনেক দূর গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শাসককে বদলি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করে। আলিপুরদুয়ারের নতুন ডিএম করা হয় শুভাঞ্জন দাসকে। ওই ঘটনার পর ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী’র সঙ্গে ফালাকাটার আইসি-র বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছিলেন অনেকে। কিন্তু ফালাকাটাবাসী সে সব মানতে রাজি নন। তাঁদের দাবি আইসি -কে অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে। এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “আইসি আর কী করবেন! ডিএম যা মানুষ তাতে ওঁর কিছু করার ছিল না।”

কিন্তু হঠাৎ আইসি-কে ফেরানোর দাবি কেন? 

মাত্র তিন মাস আগে ফালাকাটা থানার আইসি-র দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন অফিসার সৌম্যজিৎ। আর এর মধ্যেই বনে গিয়েছিলেন ‘হিরো।’ বেশ কয়েক বছর ধরে ফালাকাটায় শুরু হয়েছিল ‘ধাবা কালচার।’ ওই ধাবাগুলিতে চলত খুল্লমখুল্লা মদ বিক্রি। ব্লক জুড়ে নিদেন পক্ষে ২৫ টি ধাবায় ঢালাও মদ বিক্রি হচ্ছিল বলের পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিন মাসেই সব ঠাণ্ডা করে দিয়েছিলদেন আইসি। কালীপুজোর সময় অপারেশন চালিয়ে ফালাকাটার বিভিন্ন জুয়ার ঠেক বন্ধ করে হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বেই। সমাজবিরোধীদের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন এই পুলিশ আধিকারিক।

কে এই সৌম্যজিৎ রায়? 

দার্জিলিং থানার আইসি ছিলেন তিনি। পাহাড়ে বিমল গুরুং-এর দাপট একেবারে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন এই অফিসারই। পাহাড়ি খাদে আশ্রয় নেওয়া বিমল গুরুং ও তার দলবল কে হাতে নাতে ধরতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন চালিয়েছিলেন। সেই সময়ই গুরুংবাহিনীর গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা অমিতাভ মালিকের। ওই অপারেশনের পর খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

শাসক থেকে বিরোধী, কেউই মেনে নিতে পারছেন না আইসি-র এই বদলি। ফালাকাটার তৃণমূল বিধায়ক অনিল অধিকারীর কথায়, “সৌম্যজিৎবাবু ফালাকাটা থানায় দায়িত্ব নিয়ে আসার পর অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে নেন। তবে বদলির বিষয়টি রাজ্য পুলিশের। আমি তা নিয়ে মন্তব্য করব না।” স্থানীয় সিপিএম নেতা কৃষ্ণ পাল আইসি সম্পর্কে বলেন, “থানায় কোনও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে দিতেন না। ফালাকাটার পরিবেশ আমূল পাল্টে দিয়েছিলেন এই অফিসার।” ফালাকাটা কলেজের অধ্যক্ষ হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন,  “ফালাকাটাতে মদ-মাতাল আর সমাজ বিরোধীদের দৌরাত্ম্যের সমাপ্তি ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন আইসি। তাঁর এই বদলি মেনে নেওয়া যায় না।”

এখন দেখার, জনতার ক্ষোভের চাপে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনও রদবদল হয় কিনা।

কফিন আঁকড়ে বিউটির কান্নার বছর ঘুরল, সেই বউমাও এখন দূরে

Comments are closed.