খেলনার ভিতর গাছের বীজ, সবুজায়নের দিশা দেখাচ্ছে পুরুলিয়ার পুতুল ফেরিওয়ালারা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা পুতুল ফেরি করেন। মাটির খেলনা বানিয়ে ভিতরে ভরে দেন গাছের বীজ। খেলনা ভাঙলেই বীজ ছড়িয়ে পড়বে মাটিতে। জন্ম নেবে এক নতুন প্রাণ। এই ভাঙা-গড়ার মাঝেই পরিবেশ রক্ষার পাঠ দিতে এগিয়ে এসেছেন পুরুলিয়ার সনকা, সুজাতা, রিনা ও প্রতিমারা।

    জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম রয়না, পাথরডি, কেন্দাজোড়, ছোট রাঙ্গা। এই গ্রামগুলির প্রায় ১২টি স্বনির্ভর দল নিয়ে তৈরি হয়েছে নবীন আশার আলো সাথী মহিলা স্বনির্ভর সংঘ। স্বামী সংসার সামলে এখানেই দিনভর কাজ করেন সনকা, সুজাতার মতো মহিলারা। শহরের স্কুল-কলেজ বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মতো অনেক টাকার প্রকল্প তাঁদের নেই। তবে ভাবনাটা স্বচ্ছ। গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা গড়ে তুলতে দলবদ্ধ ভাবে এগিয়ে এসেছেন এই সংঘের মহিলারা। নিজেদের হাতে মাটির পুতুল গড়ে পৌঁছে দিচ্ছেন এলাকার বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কচিকাঁচাদের হাতে।

    প্রকৃতি ও জীবজগতকে হাতেকলমে চেনাতেই এই মহিলাদের পরিবেশ বাঁচাও অভিযান। স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ছোটদের তাঁরা বোঝাচ্ছেন কেন গাছের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে পরিবেশে। গাছ লাগানোর সুফল কী কী। দূষণ রুখে পরিবেশ বাঁচাতে সবুজায়নের গুরুত্ব কতটা। তাঁদের কথায়, বাচ্চাদের গাছ লাগানোর কাজে উৎসাহ দিতে পুতুলের ভাবনাটাই সবচেয়ে আগে মাথায় আসে। মাটি দিয়ে রাজা-রানি থেকে পশু-পাখি, নানা রকমের পুতুল গড়ে তার ভিতরে ভরে দেওয়া হচ্ছে শাল, সেগুন, পেয়ারা, শিশু ইত্যাদি গাছের বীজ। ছোটদের বোঝানো হচ্ছে এই খেলনা ভেঙে গেলেই ভিতরের বীজ মাটিতে পড়ে তার থেকে ছোট্ট চারা জন্মাবে। কী ভাবে সেই গাছের পরিচর্চা করতে হবে সেটাও শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের।

    নবীন আশার আলো সাথী মহিলা স্বনির্ভর সংঘের এক মহিলা জানিয়েছেন, প্রায় ১০০০ খানেক পুতুল তৈরি হয়ে গেছে। এলাকার প্রায় ৭০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাতে সেগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। পুতুল পেয়ে বাচ্চারা খুব খুশি। তাদের চোখেও এখন সবুজায়নের স্বপ্ন।

    এই কাজে প্রশাসনের সাহায্য কী মিলেছে? উদয় সাহুর (প্রাথমিক শিক্ষক)কথায়, ‘‘প্রশাসনের সরাসরি সাহায্য নেই। এটা সম্পূর্ণই সুজাতা মান্ডি, মুক্তা মাহাতো, রিনা কর্মকার, সারদি মান্ডি, সনকা মান্ডিদের নিজস্ব উদ্ভাবনা।’’ মহিলাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের বিডিও তারাশঙ্কর প্রামাণিক। তিনি বলেছেন, ‘‘ওঁদের কথায় নতুন দিনের আশার আলো। একটা গাছ জন্মালেই ওরা জানবে এটা ওদের সাফল্য। আর এই সাফল্যের ছোঁয়া পেতেই ওরা সবাই এখন সবুজের ফেরিওয়ালা।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More