সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

কাটমানি ফেরত দেওয়ার নামে মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ময়নাগুড়িতে, নাম জড়াল তৃণমূল নেতার

  • 26
  •  
  •  
    26
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ময়নাগুড়ি: কাটমানি ফেরত দেওয়ার নামে এক মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল ময়নাগুড়িতে। নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাপ্টিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান মহম্মদ বুলবুল। যদিও গোটা ঘটনাকেই ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

নির্যাতিতার অভিযোগ, সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে ৭০০০ টাকা নেন মহম্মদ বুলবুল। কিন্তু, মাস কয়েক কেটে গেলেও কোনও ঘর মেলেনি। পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। গত ১৪ অগস্ট টাকা ফেরত নিতে তিনি বুলবুলের বাড়ি যান। মহিলার অভিযোগ, সেখানেই তাঁর উপর নির্যাতন চালিয়েছেন মহম্মদ বুলবুল ও তাঁর তিন সঙ্গী।

নিজের বাড়িতে আটকে রেখে তাঁর উপর নির্যাতন চালান বুলবুল, অভিযোগ নির্যাতিতা মহিলার। তাঁর আত্মীয় আবদুল হোসেন জানিয়েছেন, মহম্মদ বুলবুলের বাড়িতেই সে দিন ছিল জয়নাল আবেদিন, জাহিদুল ইসলাম ও আরিফুল হক। চারজনে মিলে মহিলাকে চেপে ধরে মুখে কাপড় চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে। পরে যৌনাঙ্গে বেগুন ঢুকিয়ে নির্যাতন চালায়। মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। ভয় ও লজ্জার কারণে এতদিন ধর্ষণের কথা চেপে রেখেছিলেন তিনি। পরে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পরিবারকে সব খুলে বলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা অধীর চন্দ্র বর্মনের কথায়, ‘‘ওই মহিলা কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছেও এসেছিলেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে, আমি ময়নাগুড়ি থানায় তাঁকে নিয়ে আসি। অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা চাই দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।’’

ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডেনডুপ শেরপা। তিনি জানিয়েছেন, মহিলাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য জলপাইগুড়ি মাদার হাবে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আদালতে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দী নেওয়ার জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গোটা ঘটনাকেই ‘ষড়যন্ত্র ও সাজানো’ বলে মন্তব্য করেছেন জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী। বলেছেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে আমাদের মনে হচ্ছে পুরোটাই সাজানো। শুনেছি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।’’

Comments are closed.