শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

ডুয়ার্সে উদ্ধার বাঘের চামড়া,হাড়, পাকড়াও ভুটানের প্রাক্তন সেনাকর্মী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনের তোয়াক্কা না করেই ভুটানের মানস ন্যাশনাল পার্কে বাঘ হত্যা চলছে এমন খবর আগেই পেয়েছিল বনবিভাগ। খবর ছিল চোরা পথে ভুটান থেকে বাঘের চামড়া, হাড় ও দেহাংশ পাচার করা হচ্ছে ডুয়ার্সের হাসিমারাতে। সেখান থেকে দালাল মারফত সেই চামড়া শিলিগুড়ি হবে পাচার করা হবে নেপালে। দিনের পর দিন ওৎ পেতে থেকে শেষমেশ পাচারকারী দলের দু’জনকে হাতেনাতে পাকড়াও করে উত্তরবঙ্গের বনবিভাগের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিতে আবেদন জানিয়েছে অসমের বনবিভাগ।

বনবিভাগ জানিয়েছে, জনা সাতেকের একটি দল হাসিমারা চৌপতি এলাকা পৌঁছলে ক্রেতা সেজে তাদের ফাঁদে ফেলা হয়। ওই দলে কয়েকজন মহিলাও ছিলেন। বাকিরা পালিয়ে যায়, তবে মূল দুই পাণ্ডাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ১৪ ফুট লম্বা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া, মাথার খুলি, হাড় উদ্ধার হয়েছে। এই পাচারের পিছনে আন্তজার্তিক চক্র রয়েছে বলে বনবিভাগের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ধৃতদের নাম নামগে ওয়াংদি ও ওয়াংবা। দু’জনেই ভুটানের বাসিন্দা। ওয়াংবা ভুটানের একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী বলে দাবি বনবিভাগের।

ঘটনার সূত্রপাত ন’মাস আগে। অভিযোগ ওঠে মানস ন্যাশনাল পার্কের টি-৫৯ বাঘটিকে হত্যা করেছে চোরাশিকারিরা। অসমের শ্রীরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রধান সঞ্জয় দত্ত। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় মোবাইল ফোন। তাদের জেরা করেই আরও তিনজনকে পাকড়াও করা হয়।

বনকর্তারা জানিয়েছেন, জেরায় ধৃতরা জানায় নেপালের কাঠমান্ডুতে বিক্রির জন্য বাঘের চামড়া ও হাড় নিয়ে যাওয়া হবে। পাচারে যুক্ত আরও কয়েকজনের নামও জেরায় উঠে আসে। এরপরেই তক্কে তক্কে থেকে গত ১৫ অক্টোবর হাসিমারা থেকে দু’জনকে পাকড়াও করা হয়।

অসম বনবিভাগের এক কর্তা আব্বাস আলি দেওয়ান জানিয়েছেন, মানস ন্যাশনাল পার্কের সব বাঘেরই একটা বিশেষ সনাক্তকরণ চিহ্ন আছে। টি-৫৯ বাঘের শরীরে যে চিহ্ন ছিল, তার সঙ্গে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘের চামড়া মিলে গেছে। এই বাঘের হাড়েও গুলির দাগ ছিল। যার থেকেই স্পষ্ট পাচারকারীরা গুলি করে মেরেছিল টি-৫৯ বাঘকে।

কুচকাওয়াজ

Comments are closed.