মঙ্গলবার, আগস্ট ২০

টিএমসিপি-এবিভিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র আরামবাগের নেতাজি কলেজ চত্বর, দু’পক্ষের লাঠালাঠি, ইটবৃষ্টি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে সংকট চরমে। এমন উত্তেজনক পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধুন্ধুমার বাঁধল আরামবাগের নেতাজি কলেজের সামনে। টিএমসিপি-এবিভিপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলেজ। ঘটনায় জখম দু’পক্ষেরই অন্তত চার জন সদস্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজ্য ও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মঞ্চ বেঁধে কর্মসূচী চলছিল টিএমসিপি-র। অভিযোগ, সেই কর্মসূচীতে হামলা চালায় বিজেপির লোকজন। টিএমসিপি-র কর্মীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী চলছিল তাঁদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় বাইরে থেকে ট্রাকে করে লোকজন এসে হামলা চালায় তাঁদের কর্মীদের উপর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন বেলার দিকে মৃতদেহ নিয়ে কলেজের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন কিছু লোক। তাঁদের মধ্যে এবিভিপি-র কর্মীরাও ছিলেন। সেই সময় টিএমসিপি-র কর্মসূচী চলছিল কলেজের সামনে। এবিভিপি-র লোকজন দেখেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন টিএমসিপি-র সদস্যেরা। পাল্টা  স্লোগান দেয় এবিভিপি-র কর্মীরাও। এর থেকেই ছড়ায় উত্তেজনা। কলেজের সামনে শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের লাঠালাঠি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে গেলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। দু’পক্ষই ইট ছুঁড়তে শুরু করে। তাতে জখম হন জনা চার জন। গৌরব চক্রবর্তী নামে টিএমসিপি-র এক কর্মী জখম হয়েছেন। সূত্রের খবর, টিএমসিপি-র সাধারণ সম্পাদক আবীর রঞ্জন নিয়োগী গুরুতর জখম।  আহতদের আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে আবীর রঞ্জন নিয়োগীর

টিএমসিপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা অধিকারীর কথায়, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী করছিলাম। বাইরে থেকে বিজেপির লোকজন এসে আমাদের কর্মীদের মারধর শুরু করে। ‘জয় বাংলা’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান শুনেই ওরা ক্ষেপে ওঠে।’’ প্রিয়ঙ্কার দাবি, এবিভিপি-র কর্মীরা নিজেদের মধ্যেই মারামারি করেছে। তাতেই জখম হয়েছে ওদের দলের লোকজন।

ঘটনা প্রসঙ্গে আরামবাগের বিজেপি সভাপতি বিমান ঘোষ বলেছেন, “আমাদের কিছু ছেলে মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছিল। এবিভিপি-র লোকজনও ছিল। এদের দেখেই টিএমসিপি-র কর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। আমাদের ছেলেদের মারধর করে।”

সংঘর্ষের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। অশান্তি এড়াতে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।

Comments are closed.