রবিবার, আগস্ট ১৮

ভোট পর্বে হিংসা অব্যাহত, তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বালুরঘাটের তপন থানা এলাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট পর্বের রাজনৈতিক হিংসা অব্যাহত। সোমবার ফের উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুরে। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হলো বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তপন থানার উত্তর বজ্রপুকুর এলাকা। গুরুতর জখম হলেন বিজেপির বুথ সভাপতি-সহ চার জন বিজেপি কর্মী। অভিযোগের তির শাসক দলের দিকে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ আচমকাই এলাকায় হামলা চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। তারা সংখ্যায় ছিল ১৫-২০ জন। বিজেপির দাবি,  উত্তর বজ্রপুকুর এলাকার বিজেপির বুথ সভাপতি অন্তেষ রাজবংশীর খোঁজেই এলাকায় হানা দিয়েছিল শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।  এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায় তারা। চড়াও হয় অন্তেষ রাজবংশীর বাড়িতেও। অভিযোগ, লাঠি, রামদা নিয়ে দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি মারতে থাকে অন্তেষবাবুকে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন আরও তিন বিজেপি কর্মী পতিত রাজবংশী, প্রসেনজিৎ রাজবংশী ও চন্দন বর্মণ।

রক্তাক্ত অবস্থায় অন্তেষবাবু-সহ চার জনকে প্রথমে তপন থানা এলাকারই একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বালুরঘাট হাসপাতালে। বুথ সভাপতির অবস্থা গুরুতর। রামদার কোপে মাথা ফেটেছে পতিত রাজবংশীর (৫৫)। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর মাথায় দশটি সেলাই পড়েছে। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার খবর পেয়ে যখন তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন, ততক্ষণে গ্রামবাসীদের সঙ্গে রীতিমতো সংঘর্ষ বেধে গেছে দুষ্কৃতীদের। দু’জনকে ধরেও ফেলে উত্তেজিত জনতা। তারপর শুরু হয় বেধড়ক মার। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠির কথায়, গ্রামবাসীদের দাবি ওই দু’জন তৃণমূল কর্মী। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন এক গ্রামবাসী। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

বিজেপির তপন ব্লক কমিটির কার্যকর্তা বিপ্লব চক্রবর্তীর দাবি, এই এলাকা বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। তাই ভোটের মরসুমে সন্ত্রাস ছড়াতে পরিকল্পিতভাবেই হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তপনের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদার কথায়, “এমন ঘটনার কথা জানা নেই। তবে তৃণমূলের কেউ জড়িত নন।”

Comments are closed.