শনিবার, মার্চ ২৩

‘মা-সন্তান দু’জনেরই সুস্থ ভাবে বাঁচার অধিকার সংবিধানে আছে’, ২৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বাকে গর্ভপাতের অনুমতি দিল হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জটিল জিনগত রোগে আক্রান্ত হলেও গর্ভস্থ ভ্রূণ অনেকটাই পরিণত। এই অবস্থায় মায়ের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ভ্রূণটির বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। এই মর্মে বেলেঘাটার বাসিন্দা ২৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের আর্জি প্রথমে খারিজ করে দিলেও শেষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘‘সংবিধানে মা এবং সন্তান দু’জনেরই সুস্থভাবে, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। পশুর মতো বেঁচে থাকার কথা সংবিধানে বলা হয়নি।’’

গর্ভধারণের ২৫ সপ্তাহের মাথায় মহিলা জানতে পারেন তাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণের জটিলতা রয়েছে। এই অবস্থায় শিশুটি ভূমিষ্ঠ হলে, সে জন্মাবে ‘ডাউন সিন্ড্রোম’ নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী ভ্রূণের কোনও জটিলতা থাকলে ২০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু, ভ্রূণের বয়স ২১ সপ্তাহের বেশি হয়ে গেলে, গর্ভপাত করানোর জন্য আদালতের অনুমতি দরকার হয়। সেই সময় পার হয়ে যাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা।

গর্ভস্থ ভ্রূণের পরিস্থিতি জটিল হলে কী করণীয় তা ঠিক করতে বিশেষজ্ঞদের মত নেওয়া বাধ্যতামূলক। সাধারণত, পরীক্ষার রিপোর্টে গর্ভস্থ ভ্রূণের ত্রুটি দেখার পরে গর্ভপাত করাতে চাইলে সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটির মত প্রয়োজন। বিচারপতি চক্রবর্তীর নির্দেশে এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড ওই মহিলার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যে রিপোর্ট পেশ করে তাতে স্পষ্ট ছিল, সময় পেরিয়ে যাওয়া গর্ভপাত করানো উচিত হবে না। সেই রিপোর্ট আদালতে পেশের পর গর্ভপাতের আর্জি খারিজ করে দেয় সিঙ্গল বেঞ্চ।

এর পরেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মহিলার আইনজীবী কল্লোল বসু ও অপলক বসু। কল্লোলবাবু জানান, ভ্রূণটির ক্রোমোজোমে যে জটিলতা আছে, তাতে সে ‘ডাউন সিন্ড্রোম’ নিয়ে জন্মালে তার উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যা করার আর্থিক সঙ্গতি পরিবারটির নেই। গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়ার পর বিচারপতিরা এ দিন জানান, মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলা গর্ভস্থ সন্তান প্রসব হওয়ার পরই তাকে চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে। এবং চিকিৎসার ফল কী হবে, সেই সম্পর্কেও চিকিৎসকরা নিশ্চিত নন। এই অবস্থায় সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তার সঙ্গে মাকেও মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। কাজেই গর্ভস্থ সন্তানের অধিকার যেমন দেখতে হবে, তেমনি মায়ের অধিকার দেখাটাও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.