সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

স্কুলে ঢুকে ছাত্র পেটানোর অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ পুরশুড়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লাস চলাকালীন স্কুলে ঢুকে এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আরামবাগ মহকুমার পুরশুড়া থানার সোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর। ঘটনার প্রতিবাদে দীর্ঘক্ষণ আরামবাগ-তারকেশ্বর রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় স্কুল পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকরা। পরে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম আলাউদ্দিন মির্জা। স্কুল চলাকালীন আচমকাই ভিতরে ঢুকে পড়ে আলাউদ্দিন। নবম শ্রেণির ছাত্র ঋজু মাঝিকে ডেকে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের সামনেই ঋজুকে ধরে বেধড়ক মারতে থাকে আলাউদ্দিন। অভিযোগ শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ ওই ঘটনার কোনও প্রতিবাদ করেননি। এর পর  ছাত্র পেটানোর খবর পেয়েই স্কুলে পৌঁছন পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। হাজির হন এলাকার বাসিন্দারাও। স্কুল চত্বরে শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার।

বুধবার সকাল থেকেও রীতিমতো উত্তপ্ত ছিল সোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর। স্কুলের গেট আটকে ধর্নায় বসেছিলেন পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলের ভিতরে ঢুতে দেওয়া হয়নি। দোষীর শাস্তির দাবিতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে চলছিল প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ স্কুলের গেট আটকে বিক্ষোভ চলতে থাকবে।

বেলা বাড়তে আরামবাগ-তারকেশ্বর রাজ্যসড়কের উপরেও বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন আরামবাগের এসডিপিও। তাঁদের সামনেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ রায় বলেছেন, “ঋজু মাঝি নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে এলাকার এক তৃণমূল নেতা স্কুলে ঢুকে মারধর করে বলে শুনেছি। ঘটনার সময় আমি স্কুলে ছিলাম না, এডিআই অফিসে ছিলাম। আজ স্কুলে এসে দেখি ছেলেরা আন্দোলন করছে। পুড়শুড়া থানার ওসি ও স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতিকে বিষয়টা জানিয়েছি।”

অন্যদিকে, স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি আকবর মিদ্দা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তাঁর গ্রামের ছেলে। ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্কুলের ভিতর এমন আচরণ কখনওই বরদাস্ত করা যায় না। ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের বক্তব্য, “আইনত যা করার পুলিশ করবে। দলের তরফে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Comments are closed.