শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

বর্ধমানের প্রীতি দেশের সেরা, ন’বছরেই জিতে নিয়েছে দর্শক মন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিষ্টি গলায় যখন সে গেয়ে ওঠে ‘রাহো মে উনসে মুলাকাত হো গয়ি’, উল্লাস করে ওঠেন দর্শকরা। ন’বছরের মেয়ের সুরের জাদুতে মাত  অলকা ইয়াগনিক, জাভেদ আলি থেকে হিমেশ রেশমিয়া। ক্লাসিকাল, সেমি ক্লাসিকাল দিব্যি খেলে কচি গলায়। প্রীতি ভট্টাচার্য। বর্ধমানের প্রীতিই বাংলার সেরা ‘সুপারস্টার সিঙ্গার।’ ফাইনাল রাউন্ডে ছ’জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে প্রীতি জিতে নিয়েছেন সোনি এন্টারটেনমেন্টে সবচেয়ে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো সুপারস্টার সিঙ্গারের মঞ্চ।

বাড়ি বর্ধমানের বাদামতলায়। বাবা প্রিয়ত ভট্টাচার্য ব্যবসায়ী। সংসার সামলান মা প্রিয়াদেবী। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস স্কুলের ক্লাস ফোরের ছাত্রী প্রীতি সুপারস্টার সিঙ্গারের বাকি প্রতিযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। “আমি সকলের মধ্যে ছোট ছিলাম। সবার আদরও পেয়েছি। তবে জিততে পারব এটা ভাবিনি। এখানে সকলেই খুব ভালো গায়। দর্শক ও বিচারকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ,” মিষ্টি হেসে জানাল প্রীতি।

গানের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক জুড়েছে সেই তিন বছর বয়স থেকেই, জানিয়েছেন প্রীতির মা প্রিয়াদেবী। বর্ধমানের গানের শিক্ষিকা তাপসী ঘোষের কাছেই সঙ্গীতে হাতেখড়ি। ধ্রুপদ সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ আছে প্রীতির মা প্রিয়াদেবীরও। জানিয়েছেন, মেয়ের জন্মের পরে গানের রেওয়াজে ইতি টেনেছিলেন। চেয়েছিলেন মেয়েকেই বড় গায়িকা বানাবেন। সেই স্বপ্ন সফলের প্রথম সিঁড়ি পেরিয়ে গেছে প্রীতি। গর্বিত মা বললেন, ‘‘মেয়েই আমাকে ফের গানের চর্চা শুরুতে বলে। প্রীতির গানের স্কুলেই আবার ভর্তি হয়েছিলাম। মা-মেয়ে একই সঙ্গে রেওয়াজ করতাম। ওর সাফল্য আমার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে সার্থক করেছে।’’


শুধু গান নয়, মেয়েটা নাচেও ভালো, জানিয়েছেন প্রীতির মা, বাবা দু’জনেই। হিন্দিতেও ভালো দক্ষতা রয়েছে। খুব দ্রুত য়ে কোনও গান তুলে নিতে পারে। মুম্বইতে গিয়ে ভাষাটা তাই প্রীতির কাছে কোনও সমস্যাই হয়নি। সুপারস্টার সিঙ্গারের কলকাতা অডিশনে প্রথম তিন রাউন্ডেই বিচারকদের মন জিতে নেয় প্রীতি। মুম্বইতে বাকি তিনটি রাউন্ডেও তার পারফরম্যান্স ছিল তুখোড়। প্রীতি যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেয়ে উঠত, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ বা ‘দিল ভিল প্যার ভ্যার,’ মুগ্ধ হয়ে শুনতেন অলকা ইয়াগনিক, জাভেদ আলি, হিমেশ রেশমিয়া। প্রীতি প্রিয় গায়িকা অলকা ইয়াগনিক। খুদের কথায়, ‘‘অলকাজী আমার প্রশংসা করতে সব সময়। খুব উৎসাহ দিয়েছেন। জাভেদজী আমার সঙ্গে স্টেজে নেচেছেন।’’

বর্ধমান থেকে আগে এত বড় সম্মান কেউ পায়নি, জানিয়েছেন প্রীতির বাবা প্রিয়তবাবু। বর্ধমানের অনেক পুজো কমিটিই প্রীতিকে পুরস্কার দিয়েছে। নবমী-দশমী চুটিয়ে ঠাকুর দেখেছে প্রীতি। কারও কারও আবদারে গানও গেয়েছে। প্রীতির বাবা বলেছেন, ‘‘একটি পুজো কমিটি মেয়েকে গিটার উপহার দিয়েছে। ও খুব খুশি। মুম্বইতে নিজের কেরিয়ার তৈরি করতে চায়। আমরা ওর পাশে আছি।’’

গানই প্রীতির বন্ধু। ভালোবাসাও। সঙ্গীতকেই পরবর্তী কালে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চায় প্রীতি। তবে সেলেব হয়ে রঙিন জীবন কাটানোর স্বপ্ন সে দেখে না। বরং বর্ধমানের মেয়ে বাবা-মায়ের আদুরে প্রীতি হয়েই থাকতে চায়।

আরও পড়ুন:

কলকাতার কিশোরী ভুবন ভরাচ্ছে গানে, নিজের শহরেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার

Comments are closed.