বাংলায় বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষ জোট চান সীতারাম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, দাড়িভিট: ব্রিগেডে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা মিটিং হচ্ছে, তখন ব্রিগেড থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে ইসলামপুরের দাড়িভিটে সভা করল সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। শনিবার সেই সভায় বক্তব্য রাখতে এসে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক আরও একবার সওয়াল করে গেলেন বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে।

    এ দিন সীতারাম দাড়িভিটের জনসভায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যখন দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য মোদীর বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র বারবার ধ্বংস হচ্ছে তৃণমূল সরকারের হাতে। দেশকে মোদী সরকারের হাত থেকে বাঁচানো দরকার,পাশাপাশি রাজ্যকে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে বাঁচানো প্রয়োজন।” সেই সঙ্গে ইয়েচুরি এ-ও বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ যে শক্তি আছে সেই শক্তিকে এক রেখে বিজেপি বিরোধী জোট করা প্রয়োজন। তৃণমূল এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে এই জোট করতে হবে। কারণ বাংলায় তৃণমূল যা করছে, দেশে বিজেপি তাই করছে।”

    ব্রিগেডে তৃণমূলের ডাকা ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‍্যালি’-কে সমর্থন জানিয়ে শুক্রবারই চিঠি লিখেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ২৪ নম্বর আকবর রোড থেকে সেই চিঠি প্রকাশ হতেই তৃণমূল শিবিরে যেমন উল্লাস দেখা গিয়েছিল, ঠিক তেমনই বাংলা কংগ্রেসের সদর দফতর এবং সিপিএমের রাজ্য পার্টি অফিস ৩১ নম্বর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নেমে এসেছিল এক অদ্ভুত নীরবতা। তারপর সময় যত এগিয়েছে, ততই মেঘ কেটেছে। প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র রাহুলের চিঠির ব্যাখ্যা দিতে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। সেখানে ‘ছোড়দা’ বলেন, “বিজেপি বিরোধী লড়াইকে সমর্থন জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তৃণমূলকে বা মমতাকে নয়।” বুঝতে যাতে অসুবিধে না হয় সে জন্য বলেছিলেন, “যারা আমাদের কর্মীদের মারছে, কেস দিচ্ছে, খুন করছে তাদের সঙ্গে কী করে বন্ধুত্বের হাত বাড়াব।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও রাহুলকে বোঝাতে বিবৃতি দেন।

    এমনিতে সোমেন, অধীর, মান্নানরা হাইকম্যান্ডকে বারবার বলেছেন, কোনওভাবেই যেন তৃণমূলের সঙ্গে জোট না করা হয়। কিন্তু কংগ্রেস একটা সর্বভারতীয় দল। যেখানে সব রাজ্যের বিজেপি-বিরোধী নেতারা আসছেন, সেখানে যদি সাবেক দলের কোনও প্রতিনিধিত্ব না থাকে তাহলে কি সেটা খুব একটা ভাল দেখায়! তাই খানিকটা নিয়মরক্ষার জন্যই লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খার্গেকে ব্রিগেডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু খার্গেও তেমন উঁচু স্তরের নেতা নন। আর মমতা-সনিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। অনেকের মতে, রাহুল খানিকটা বাঁ হাতে মনসা পুজো দেওয়ার মতোই ওই চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এ দিন মল্লিকার্জুনও ব্রিগেড থেকে ফিরে পিসিসি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বলেন, “বকরি ঈদ মে বাঁচেঙ্গে, তো মহরম মে নাচেঙ্গে!”

    জোটের ব্যাপারে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পাকা কথা বলার জন্য বঙ্গ সিপিএম দায়িত্ব দিয়েছে সীতারামকে। কারণ ষোলোর ভোটে জোট করে রাজ্য নেতাদের ধমক খেতে হয়েছিল পলিটব্যুরোর। কিন্তু এ দিন মল্লিকার্জুনের কথা আর সীতারামের কথাকে দুইয়ে দুইয়ে চার করে অনেকেই বলছেন, লোকসভাতেও হয়ত হাত-কাস্তে এক হয়ে লড়বে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More