বকখালির কাছে আছড়ে পড়ল বুলবুল, বাড়ছে ঝড়ের বেগ, তাণ্ডব চলবে তিন ঘণ্টা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ঢুকে পড়ল অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার বেগে বকখালির পূর্বদিকে আছড়ে পড়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। অর্থাৎ পূর্ব আশঙ্কা মতোই সাগরদ্বীপের কাছে ‘ল্যান্ড ফল’ হয়েছে।

স্থলভাগে ঢোকার পরে এর গতি বেড়েছে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ভেঙে পড়েছে বেশ কিছু কাঁচা বাড়ি। উপড়ে গেছে গাছপালা। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্থ সুন্দরবনও।

সাগরদ্বীপ থেকে বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে স্থলভাগে প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথে রয়েছে সুন্দরবন ব-দ্বীপ অঞ্চল। চরম ক্ষতি হতে পারে সেখানেও। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল এলাকায়। ঝড়ের প্রভাব পড়বে হাওড়া, হুগলি, কলকাতাতেও। উপকূলবর্তী এলাকায় ইতিমধ্যেই ঝড়ের বেগ ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় ১০০-১১০ কিলোমিটার/ঘণ্টা। কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে প্রতি ঘণ্টায় ৬৫-৮৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

ঝড়ের দাপটে  ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দিঘা। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে চলছে নাগাড়ে বৃষ্টি। একই অবস্থা বকখালিতেও। স্থানীয়রা বলছেন, “প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। বৃষ্টি চলছে মুষলধারে। ইন্টারনেট নেই। যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হতে বসেছে। অবস্থা খুবই ভয়ঙ্কর। আতঙ্কে রয়েছেন সকলে।”

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে বুলবুলের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে সাগর, ধবলাহাট, শিবপুর, সাগর ব্লকের চেমাগুড়ি, মৌসুনি, বকখালি এবং ফ্রেজারগঞ্জ এলাকায়। ইতিমধ্যেই ঝড়ের দাপট বেড়েছে। ঘোড়ামারার নিচু এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গঙ্গাসাগর, কাকদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জে চলছে মুষলধারে বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে গঙ্গাসাগরের তটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ড হারবারে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে।

অন্যদিকে এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে দক্ষিণবঙ্গের বিক্ষিপ্ত স্থানে বেশকিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও গাছ ভেঙে পড়েছে আবার কোথাও কাঁচা মাটির বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। তবে সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষির। গোটা ধান ক্ষেত ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গেছে। জলে ভাসছে চাষের জমি।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দিঘা

দুর্যোগ মেকাবিলা করতে তৈরি নৌবাহিনী। বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন হয়েছে নৌসেনার এয়ার ক্রাফট। টহলদারি চলছে বিশাপত্তনমেও। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। শনিবার বিকেলেই সেখানে হাজির হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপকূলবর্তী বিভিন্ন জেলায় চলছে কড়া নজরদারি। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে রেলের তরফেও। দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর এলাকায় চলছে কড়া নজরদারি। ইতিমধ্যেই এ রাজ্যের উপকূল এলাকা থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। দুর্যোগের জন্য শনিবার সন্ধে ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর। বাতিল করা হয়েছে সব উড়ান।ট্রেন লাইনে গাছ পড়ে বাতিল হয়েছে শিয়ালদহ-লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল।

আরও পড়ুন:

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অন্ধকারে ঢেকেছে দিঘা, ঝড় দেখতে সৈকতে ভিড় করতে পারেন পর্যটকরা, সতর্ক প্রশাসন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More