মঙ্গলবার, জুন ২৫

পথ দুর্ঘটনায় বাইক আরোহীর মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র রাজগঞ্জ, জনতা-সিভিক পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, জখম ১৬

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তেজিত জনতার তাণ্ডবে শুক্রবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর এলাকা। সিভিক পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে শুরু হয় বিক্ষোভ। ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর জখম হন রাজগঞ্জ থানার ওসি সুজন কুণ্ডু-সহ ১৫ জন পুলিশ ও সিভিক কর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ঘটনার সূত্রপাত একটি বাইক দুর্ঘটনাকে ঘিরে। জাতীয় সড়কের উপর দ্রুত গতির লড়ি পিষে দেয় দুই বাইক আরোহীকে। এই দুর্ঘটনার পরই এলাকার বাসিন্দারা ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে উত্তেজিত জনতা ঘিরে ধরে সিভিক পুলিশের গাড়ি। শুরু হয় ভাঙচুর। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন গাড়ির ভিতরে থাকা সিভিক কর্মীরা। অভিযোগ, গাড়ি থেকে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে নামিয়েও চলে মারধর।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাজগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশাহিনী। স্থানীয় সূত্রে খবর, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশকে ঘিরে ধরেও ক্ষোভ দেখাতে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টাও হয়। সামাল দিতে চার রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ফাটানো হয়।  এলাকায় পৌঁছয় আধা সেনা।

পুলিশ সূত্রে খবর, সিভিক কর্মী-সহ মোট ১৬ জন পুলিশ আধিকারিক গুরুতর জখম। তাঁদের মধ্যে থানার ওসিও রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে রাজগঞ্জের মগড়াডাঙী হাসপাতালে। এ দিন বিকেলের দিকে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান, জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি। পরে পৌঁছন ডিএসপি হেড কোয়াটার প্রদীপ সরকার।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সিভিক পুলিশদের অত্যাচারে নাজেহাল এলাকাবাসী। চেকিং-এর নামে নির্বিচারে চলে তোলাবাজি। ঘটনায় জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন জখম পুলিশ কর্মীদের মধ্যে সাত জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হযেছে। বাকিদের অবস্থা গুরুতর।

Comments are closed.