শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

দিদি দেখুন: বর্ষায় ফুঁসছে ভাগীরথী, বাঁধ ভাঙলে গ্রাম বাঁচবে তো! আশঙ্কায় দিন কাটছে কাটোয়ার চরসাহাপুরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কাটোয়া: প্রতিদিন নদীর পাড় ভাঙার শব্দ। বর্ষায় আরও ফুলে ফেঁপে উঠেছে ভাগীরথী। ধীরে ধীরে গ্রাস করছে নদী তীরের ঘরবাড়ি, চাষের জমি। আগামী ক’দিনও টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। চিন্তা বেড়েছে নদী তীরবর্তী কাটোয়া মহকুমার চরসাহাপুর গ্রামের। হাতে গড়া অশক্ত বাঁধ যদি ভেঙে পড়ে আচমকা!  গ্রামটা বাঁচবে তো!

কয়েক বছর ধরেই চলছে ভাগীরথীর ভাঙন। ভরা বর্ষার মরসুম আসলেই ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি আসে বাঁধ সারাইয়ের। কাজও শুরু হয়, তবে শেষ হয় না। বাঁধ তৈরির কাজ নিয়ে দাঁইহাট পুরসভা লাগোয়া ২ নম্বর ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের এই চরসাহাপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কয়েক একর চাষের জমি ভাগীরথীর জলে চলে গিয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। বাঁধ ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা। এই বাঁধের উপরে নির্ভরশীল দাঁইহাট শহরও।

“বাঁধ সারাইয়ের নামে পকেট ভরছে ওদের”, দাবি এক গ্রামবাসীর। অভিযোগ, বাঁধ সারাইয়ের প্রতিশ্রুতি মিললেও আদতে কাজ হয় না। গ্রামবাসীদের আবেদনের সব নথিই নাকি পড়ে রয়েছে সরকারি দফতরে। যদিও জেলাশাসকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, নদী ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। ভাগীরথীতে চারটে জায়গায় ভাঙনের জন্য বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার মুখে। কাটোয়া ২ ব্লকের চরসাহাপুর, অগ্রদ্বীপ, পূর্বস্থলীর ঝাউডাঙা ও জালুইডাঙার পরিস্থিতি বেশ খারাপ। সরকারি দফতরের দাবি, এই চারটে জায়গাতেই বাঁধ সারাই-সহ অন্যান্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

বর্ষায় ভাগীরথী এখানে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। গ্রামের বর্ষীয়াণ বিশ্বনাথ চৌধুরীর কথায়, “বাপ-ঠাকুর্দার ভিটে, তিলে তিলে গড়া সম্পত্তি গ্রাস করেছে গঙ্গা। সব হারিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব। নদী ভাঙন রোখার ব্যবস্থা করুন দিদি। আমাদের বাঁচান।” ভোটের আগে প্রতিবারই নেতারা আশ্বাস দেন, বাঁধ সংস্কারের কাজ হবে, বাস্তবে তা হয় না, অভিযোগ কাত্তিক বিশ্বাসের। জগন্নাথ বিশ্বাসের দাবি, “সেই ছোট থেকে দেখছি নদী ভাঙন তাড়া করে বেড়াচ্ছে আমাদের। বর্ষাকাল এলেই আতঙ্ক বেড়ে যায়। গ্রাম বাঁচাতে রাত জেগে আমরা পাহারা দিই। এইভাবে আর কতদিন?”

Comments are closed.