কুলটির অবৈধ খাদানে আটক যুবকদের উদ্ধারে নামল এনডিআরএফ, প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন গ্রামবাসীরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে গেছে চার দিন। কুলটির বিজলি খাদান লাগোয়া অবৈধ কয়লা খাদানে আটকে পড়া তিন যুবকের খোঁজ মেলেনি। খাদানের ভিতর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে বারে বারেই থমকে গেছে উদ্ধারকাজ। অভিযোগ উঠেছে গাফিলতির। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত ওই গ্রাম। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। রাজ্যের উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (এনডিআরএফ)।

    সকাল সাড়ে ৭টা থেকে কয়লা খাদানের সামনে মেলা ভিড়। আটকে পড়া যুবকদের পরিবার ছাড়াও গোটা গ্রাম ভেঙে পড়ছে উদ্ধারকাজ দেখতে। এনডিআরএফের ৩২ জনের একটি দল উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। খাদানের ভিতর পাইপ নামিয়ে গ্যাস বার করার কাজ চলছে। এনডিআরএফের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে পুলিশ এবং কাউন্সেলার নেপাল চৌধুরী। গতকালই গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে আকনগ্রামের ওই খাদান পরিদর্শন করতে যান কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। বিধায়ক বলেন, “খাদানের পরিস্থিতি খুব ভয়ঙ্কর। বিষাক্ত গ্যাসে ভরে গেছে চারপাশ। উদ্ধারকারী দল তাই ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। আমি ইসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা উদ্ধারের কাজে সহায়তা করবে।”

    এনডিআরএফের ডেপুটি কমান্ডার অভয় কুমার সিং বলেছেন, “এই খাদানে নেমে উদ্ধারকাজ বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এইসব অবৈধ খাদানের ভিতর কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই অক্সাইড ভর্তি থাকে। সেখানে নামা মৃত্যুরই সামিল। আমাদের দলের সদস্যেরা তাই এই খনিমুখের সমান্তরালেই আরেকটা গর্ত খোঁড়ার কাজ করছে যেখান দিয়ে নেমে উদ্ধারকাজ সহজ হয়।”

    কুলটির অবৈধ কয়লা খনিতে নামার পর থেকে আর খোঁজ নেই সন্তোষ মারান্ডি, কালীচরণ কিসু ও বিনয় মুর্মুর। অন্ধকূপের ভিতরে আটকে পড়া যুবকরা আর বেঁচে আছেন কি না সেই নিয়ে সংশয়ও দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা আগেই জানিয়েছিলেন, অন্ধকার খাদানে বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে যুবকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। তাও আশা করে বসে আছেন সন্তোষ, কালীচরণ ও বিনয়ের মা-বউ-ছেলেমেয়েরা। একবার যদি বাড়ির দরজায় সেই পরিচিত গলার স্বর শোনা যায়!

    বিজলি খাদানের পাশ ঘেঁষে ওই খাদানের কথা জানতেন না বেশি কেউই। আদিবাসীরাই খুঁড়ে গাছপালা চাপা দিয়ে রেখেছিলেন। সন্ধের আঁধারে খাদানে নেমে চলত কয়লা তোলার কাজ। নিখোঁজদের পরিবার জানিয়েছে, ওই দিন সন্ধেয় খাদান পরিষ্কার করতে গিয়েছিলেন তিনজনে। আর ফিরে আসেননি। বিধায়ক উজ্জ্বলবাবু বলেছেন, দু’পয়সা বেশি রোজগারের জন্য গ্রামের ছেলেরা ওই সব খাদানে নামেন। সেখান থেকে কয়লা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন তাঁরা। কুলটির নানা জায়গায় আগাছার মতো গজিয়ে উঠেছে এইসব খাদান। নিষেধ করা সত্ত্বেও প্রাণের তোয়াক্কা না করে রাতের অন্ধকারে খাদানে নেমে চলে কয়লা তোলার কাজ।

    পুলিশ জানিয়েছে, খাদানের মুখ এতটাই সংকীর্ণ যে সেটা খুঁড়ে বড় করতে অনেক সময় লেগেছে। তারপর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ভিতরে নামাও সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার সন্ধে থেকে পাইপ নামিয়ে গ্যাস বার করার কাজ শুরু হয়। তবে তিনটে পাইপ নষ্ট হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে উদ্ধারকাজ শুরু হলেও, কিছুক্ষণ পরেই উদ্ধারকারী দলের লোকজন ফিরে যান। আর তাঁদের পাত্তা পাওয়া যায়নি। বিধায়কের কাছে গিয়ে ক্ষোভ দেখানোর পর ফের উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।

    আরও পড়ুন:

    কুলটির অবৈধ খাদানে এখনও আটকে তিন, বেঁচে ফিরবে কি? হাহাকার করছে পরিবার

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

    সাতমহলা আকাশের নীচে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More