রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

একটা ঘরে ভাগাভাগি করে দু’টো ক্লাস, নেই লাইব্রেরি, সুন্দরবনের এই কলেজ যেন প্রাইমারি স্কুল

নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ভাঙাচোরা চারটে ঘর। তাতেই চলছে প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষের ক্লাস। অনার্স আর পাস কোর্সের ক্লাস চলে প্রায় একই সঙ্গে। কখনও সখনও একই ঘরের মধ্যে ভাগাভাগি করে। শিক্ষকের সংখ্যাও হাতে গোনা। কলেজ। তবে গেট দিযে ঢুকলে মনে হবে প্রাইমারি স্কুল।

এমনই দশা সুন্দরবনের ঢোলা মহাবিদ্যালয়ের। ২০০৯ সাল থেকে পথ চলা। প্রথমে ঢোলা হাইস্কুল ছিল। সকালের দিকে বসত ক্লাস। পরে নিজেদের পাকাপাকি জায়গা বানিয়ে বাড়ি তুলে নাম হয় ঢোলা মহাবিদ্যালয়।

সুন্দরবনের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় কলেজ। ছাত্রছাত্রী সংখ্যা এখন ৬০০-র কাছাকাছি। তবে পড়ানো হয় হাতেগোনা কয়েকটা বিষয়। আপাতত চারটে অনার্স ও পাস কোর্সের ক্লাস চলে। তাও আবার ভাগাভাগি করে ওই চারটে ঘরেই। শৌচাগারের অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। ছাত্রীরা জানিয়েছে, এমন অস্বাস্থ্যকর শৌচাগারে যেতে রীতিমতো অস্বস্তি হয় তাদের। আর কমন রুম! সেটা একরমক স্বপ্ন। বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কলেজে যেতে ভালো লাগে? ছাত্রছাত্রীদের কথায়, অধ্যাপক-অধ্যাপিকার সংখ্যা কম। প্রত্যন্ত এলাকায় এমন কলেজে আসতে চান না অনেকেই। তার পর কলেজের পরিকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ক্লাসগুলো ভাঙাচোরা। রক্ষণাবেক্ষণের কোনও ব্যবস্থা নেই। সব বই কেনার সামর্থ্য থাকে না অভাবী পরিবারগুলোর। কাজেই কলেজের লাইব্রেরিই ভরসা থাকে। কিন্তু, এই কলেজে এখনও কোনও লাইব্রেরি তৈরি হয়নি। সিলেবাস ভালো ভাবে শেষ করতে তাই খুবই সমস্যা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গোটা ব্যাপারটা জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

গ্রাম, মফস্বল থেকে আধা শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাবার কর্মসূচী নিয়েছে রাজ্য সরকার। জেলায় জেলায় শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ঢোলা মহিবিদ্যালয়ের হাল ফিরবে কবে? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি। স্থানীয় বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদারের কথায়, “আমরা সব শুনেছি। কলেজের সমস্যা মেটানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আবার কবে ঠিক মতো ক্লাস হবে? পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা চলবে জোরকদমে? জানে ঢোলা মহাবিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।

Comments are closed.