সতর্কীকরণ সত্ত্বেও বেপরোয়া পর্যটক! মেয়েকে বাঁচিয়ে দিঘার সমুদ্রে তলিয়ে গেল মদ্যপ বাবা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের মেয়েকে কাঁধে চাপিয়ে সমুদ্রে নামার সময়েই বারণ করেছিলেন নুলিয়ারা। বাবার তখন হুঁশ নেই। মদের নেশায় বেহাল। টলতে টলতে মেয়েকে নিয়ে চলেছেন স্নান করতে। স্ত্রীয়ের মানা তো নয়ই, বাকি পর্যটকদেরও চোখ রাঙিয়ে সটান নেমে গিয়েছিলেন জলে। বিপত্তি বাধে অচিরেই। ঢেউয়ের ধাক্কায় জবে খাবি খেতে খেতেই প্রাণ যায় ব্যক্তির, তবে বেঁচে যায় শিশুকন্যা।

দিঘার ১ নম্বর স্নান ঘাটের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে। মৃত ব্যক্তির নাম শঙ্কর দেব (৪৪)। উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুর এলাকার বাসিন্দা শঙ্করবাবু সপরিবারে দিঘায় আসেন গত বৃহস্পতিবার। ওল্ড দিঘার একটি বেসরকারি হোটেলে উঠেছিলেন তিনি। এ দিন দুপুর ১টা নাগাদ স্ত্রী ও পাঁচ বছরের মেয়ে অত্ত্বিকাকে নিয়ে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, মদ্যপ ছিলে শঙ্করবাবু। ঠিক মতো হাঁটতেও পারছিলেন না। তাঁকে অনেকবার জলে নামতে বারণ করেন স্থানীয় নুলিয়ারা। সকলের কথা অগ্রাহ্য করে মেয়েকে কাঁধে বসিয়ে জলে নেমে পড়েন তিনি। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে বেশ খানিকটা ভিতরেও চলে গিয়েছিলেন। তবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। ঢেউয়ের ধাক্কায় হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। তাঁর এমন অবস্থা দেখে ছুটে আসেন নুলিয়ারা। মেয়েকে তাঁদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে তলিয়ে যান শঙ্করবাবু। নুলিয়া ও সিভিকদের সাহায্যে উদ্ধার করা হয় দু’জনকেই। দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে শঙ্করবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। শিশুটি এখনও ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।

দিঘা থানার পুলিশের বক্তব্য, সৈকতে মাইকে লাগাতার সতর্কীকরণ, নজরদারির পরেও কোনও কোনও পর্যটক বেপরোয়া ভাবে সমুদ্রে নামার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে নামতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বহু পর্যটকই তা মানছেন না। ফলে মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More