বুধবার, জুন ১৯

প্রথম তিনের পাঁচ: তিনজন ডাক্তার হবে, একজন অধ্যাপক, অন্য জন ঠিক করবে পরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেধার জোরে এ বার সবার নজরে রাজ্যের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা সৌগত আর শ্রেয়সী।

এ বার মাধ্যমিকে প্রথম স্থান দখল করেছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সৌগত দাস। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪। ভগবানপুরের মনোহরপুরের নেহাতই সাদামাটা পরিবারের ছেলে সৌগত। বাবা মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠেরই অঙ্কের শিক্ষক। মা গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী। পড়াশোনা নিয়েই কাটে সৌগতর সারাদিন। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হয়ে গেছে ক্লাস ইলেভেনে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার দু’চোখে। সৌগতর কথায়, ‘‘এই এলাকায় কারও অসুখ হলে কতটা অসুবিধার মধ্যে তাকে পড়তে হয়, তা দেখছি ছোট থেকেই। খুব ইচ্ছে যদি ডাক্তার হতে পারি। আমার এলাকার মানুষদেরই সেবা করতে পারি।’’

বাবা, মায়ের সঙ্গে সৌগত

ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে ফালাকাটা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী শ্রেয়সী পালেরও। শ্রেয়সী এবং কোচবিহারের মেয়ে দেবস্মিতা সাহা ৬৯১ পেয়ে যুগ্ম ভাবে দ্বিতীয় হয়েছে।  একেবারেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শ্রেয়সী। তার বাবা শ্যামাপ্রসাদ পাল অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক। মা গৃহবধূ। দিনের মধ্যে ৮-১০ ঘণ্টাই পড়াশোনা করে কাটে শ্রেয়সীর। জানিয়েছে, মহাপুরুষদের জীবনী পড়তে ভালো লাগে তার। হবিও পড়াশোনাই। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষদের সেবা করতে চায় শ্রেয়সী।

দ্বিতীয় স্থানাধিকারি ফালাকাটা গার্লস হাইস্কুলের শ্রেয়সী পাল।

বাধা ধরা সময় ধরে কখনওই পড়াশোনা করেনি তুফানগঞ্জ ইলাদেবী গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী দেবস্মিতা সাহা। দেবস্মিতার কথায়, ‘‘খুব যে ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠতাম এমনটাও নয়, আবার অনেক রাত অবধি পড়তাম সেরকমও নয়। তবে যতক্ষণ পড়তাম, মন দিয়ে পড়তাম। ভালো রেজাল্ট হবে জানতাম, তবে এতটাও যে ভালো, আশা করিনি। ’’

ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় দেবস্মিতাও। তবে, একই সঙ্গে তার প্রিয় বিষয় কিন্তু বাংলা। দেবস্মিতার বাবা পেশায় ফার্মাসিস্ট। মা গৃহবধূ। দু’জনেই দিনের একটা বড় সময় ব্যয় করেন মেয়ের জন্য। মাধ্যমিকে দ্বিতীয় হয়ে গোটা পাড়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেবস্মিতা। ফলে বাধভাঙা আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার পরিবারকে।


(বাঁ দিকে) দ্বিতীয় কোচবিহার ইলাদেবী গার্লস হাইস্কুলের দেবস্মিতা সাহা। তৃতীয় ক্যামেলিয়া রায়, রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুল (ডান দিকে)

মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থান পেয়ে রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলার নাম উজ্জ্বল করল রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ক্যামেলিয়া রায়। তার প্রাপ্ত নম্বর ৭০০-র মধ্যে ৬৮৯। ক্যামেলিয়ার বাবা কাঞ্চিরাম রায় পেশায় স্কুল শিক্ষক। মা মাধুরী রায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। নিজের সাফল্যের পিছনে বাবা, মাকেই কৃতিত্ব দিতে চায় ক্যামেলিয়া। জানিয়েছে, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন সে মোটেও দেখে না, বরং ভবিষ্যতে আইআইটি-র গবেষক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। ক্যামেলিয়ার কথায়, ‘‘ভালোবেসে পড়াশোনা করা উচিত। আগামী বছরে যারা মাধ্যমিক দেবে, তাদের জন্য আমার টিপস, অবশ্যই পাঠ্যবই মন দিয়ে পড়তে হবে।’’

তৃতীয় নদিয়ার শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলর ছাত্র ব্রতীন মণ্ডল।

ক্যামেলিয়ার সঙ্গেই যুগ্মভাবে তৃতীয় হয়েছে নদিয়ার শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের ছাত্র ব্রতীন মণ্ডল। ব্রতীনের বাবা, মা দু’জনেই স্কুলে পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক। ব্রতীনেরও ভালোবাসার বিষয় বিজ্ঞান। তবে ভবিষ্যতে কী হতে চায়, সেরকম কোনও লক্ষ্য এখনও চূড়ান্ত করেনি এই মেধাবী পড়ুয়া। আপাতত, উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্টই তার লক্ষ্য। মাধ্যমিকে দৈনিক ৮-৯ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে ব্রতীন। উচ্চমাধ্যমিকে এই সময়টা আরও বাড়িয়ে দিতে হবে, এই টুকুই আপাতত ব্রতীনের ভাবনা।

আরও পড়ুন:

মাধ্যমিকে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুরের সৌগত, দ্বিতীয় ফালাকাটার শ্রেয়সী! এবারেও জয়জয়কার জেলার

Comments are closed.