‘ও গো লুচি!’ মিড ডে মিলে পুজোর স্বাদ, ফুলকো লুচি-ছোলার ডাল, পায়েস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ও গো লুচি তোমার মান্য ত্রিভুবনে,’ সেই কবে গান বেঁধেছিলেন রসরাজ অমৃতলাল বসু। কবির ভাবনা আর বাঙালির রসনা মিলেমিশে এক হয়ে গেল মিড ডে মিলের থালায়। পুজোর আগে কচি কচি মুখে হাসি ফোটাতে ফুলকো লুচি আর ছোলার ডালকেই হাতিয়ার করলেন ধূপগুড়ির স্কুলের মাস্টারমশাই-দিদিমণিরা। শেষ পাতে পায়েস।

    সকাল সকাল বই বগলে করে পড়তে আসে ছোট ছোট ছেলেমেয়ারা। কারোর বাবা রেলের কুলি-মজুর, কেউ বা আবার মুঠে। জলখাবার খেয়ে এসছো, জিজ্ঞাসা করলেই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে তারা। সেটা আবার কী? দু’বেলা পেট ভরাতেই যা ঝক্কি। হয় একটু শুকনো বাসি রুটি বা তুলে রাখা পান্তা। তাই খেয়েই স্কুলের পথ ধরে খুদেরা। ফুলকো লুচি, ছোলার ডালের গন্ধ শুঁকেছে বাবুদের বাড়িতে, কিন্তু চেখে দেখা হয়নি। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, মিড ডে মিলে লুচি হবে শুনে বাচ্চাদের সে কি আনন্দ!

    ধূপগুড়ির বারোঘড়িয়া বটতলী স্বর্ণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্টেশন লাগোয়া ছোট্ট স্কুলটাতে জৌলুস নেই খুব একটা। তবে আন্তরিকতা আছে ভরপুর। আর পাঁচটা গ্রামের স্কুলের মতো মিড ডে মিলে দায়সারা খিচুড়ি বা সবজির ঘ্যাঁট থাকে না। বদলে থাকে দুধভাত। আমের দিনে দুধভাতের সঙ্গে আবার ফাউ মেলে হিমসাগর আম। স্টার্টারে আবার ম্যাঙ্গো শেক।  পুজোর আগেও চমক থাকবে না তাই কী হয়!

    পুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে। স্কুলেও তালা পড়বে। তার আগে গত দু’দিন ধরে স্কুলে সাজো সাজো রব। শিক্ষকরা বাজার করেন। ৮ কিলো ময়দা, ৪ লিটার সয়াবিন তেল, ৭ কিলো দুধ, ২ কিলো চিনি ইত্যাদি। বাচ্চাদের জমিয়ে ভোজ খাওয়াতে হাজির হয়ে যায় একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোকজনেরাও। রান্নার ঠাকুরের সঙ্গে হাত লাগান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ফুলকো লুচির গন্ধে বাচ্চারাও তাড়াতাড়ি স্কুলের পথ ধরে।

    ২০১৩ সাল থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন জয় বসাক। বলেছেন, “বাচ্চাদের চোখের ভাষাই বলে দিচ্ছে লুচি খেয়ে ওরা কতটা খুশি। অভাবী পরিবার থেকেই শিশুরা আসে এই স্কুলে পড়তে। শারদীয়ায় আমরা আনন্দ করব, ভালোমন্দ খাব, আর খাবে না, তাই কী হয়!“

    প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল খুব কম। বেশিরভাগই বাবাদের সঙ্গে কুলিগিরি করতে চলে যেত। বাচ্চাদের স্কুলে ধরে আনার উপায় ভাবতে গিয়েই, মিড ডে মিলে বৈচিত্র্য আনার কথা ভাবা হয়। জয়বাবু বলেছেন, যা কিছু নতুন তাই টানে ছোটদের। মিড ডে মিলের জন্য যা সরকারি বরাদ্দ, তাতে প্রতিদিনের খিচুড়ি আর সপ্তাহে দু বা তিনদিন ডিম, এর বেশি কিছু করা যায় না। তাই নিজের পকেটে হাত পড়ে যায় হামেশাই। তিনি একা নন, স্কুলে তাঁকে নিয়ে বাকি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও চাঁদা তুলে মিড ডে মিলের আয়োজন করেন। তেতোর ডাল, নিমপাতা ভাজা, ডিমের কসা, মাশরুমের তরকারি এ সবও এসে যায় প্রতিদিনের খাবারে।

    প্রধান শিক্ষকের কথায়, “জানেন, বছর চারেক আগেও পড়ুয়াদের স্কুলে উপস্থিতির হার ছিল ৫০ শতাংশ। গত দেড় বছর ধরে মিড ডে মিলে কী করে নতুনত্ব আনব, তাই নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করি। হাতে হাতে ফল মিলেছে। এখন প্রতিদিন উপস্থিতির হার থাকে প্রায় ৮০ শতাংশ।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More